পটুয়াখালীতে জেলেদের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়ম অভিযোগ

0
পটুয়াখালীতে জেলেদের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়ম অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : জেলার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউপি সদস্যদের সম্মানি ভাতার টাকা কেটে পরিবহন খরচ মেটানো এবং জেলেদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১৫০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ১ হাজার ৩৬০ জন জেলের জন্য বরাদ্দকৃত ৮০ কেজি করে চাল বিভাজন করে ২ হাজার ৭২০ জন জেলের মাঝে ৪০ কেজি করে বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে জেলেদের কাছ থেকে পরিবহন খরচের নামে জনপ্রতি ১৫০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় গত ২০ মে সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ আকন স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হকের কাছে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মোল্লার নির্দেশে ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে জেলেদের কাছ থেকে পরিবহন খরচের নামে টাকা আদায় করা হয়েছে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ইউপি সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। অভিযোগের কারণে তারা জেলেদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে অনীহা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও সমাধান না হওয়ায় ইউপি সদস্যরা চাল বিতরণ কার্যক্রম থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন। পরে চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে সদস্যদের অনুপস্থিতিতেই চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

চাল নিতে আসা কয়েকজন জেলে, লাল মিয়া, মাহাবুব, মোহাম্মদ গাজী, রিয়াজ হাওলাদার ও কালাম হাওলাদারসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, তারা ৪০ কেজি চাল পেয়েছেন এবং পরিবহন খরচের নামে ১৫০ টাকা করে দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান রিকজ হাওলাদার এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশেই জেলেদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতে হয়েছে। সংগৃহীত টাকা দিয়ে পরিবহন খরচ মেটানো সম্ভব না হলে তাদের সম্মানি ভাতা থেকে রেজুলেশনের মাধ্যমে অর্থ কেটে নেওয়া হয়।

তারা আরও জানান, গত মার্চ মাসে ১০ জন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে অগ্রিম স্বাক্ষর নিয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৮ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। গত চার বছর ধরে একইভাবে পরিবহন খরচ মেটাতে গিয়ে তারা নিয়মিত সম্মানি ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। ইউপি সদস্যদের দাবি, প্রতি মাসে ৯টি ওয়ার্ড থেকে ১০ জন করে মোট ৯০ জন জেলের টোকেন চেয়ারম্যানকে দিতে হয়। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কেজি চালের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে চরকাজল ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, উপকূলীয় চরাঞ্চলে চাল পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় হয়। সেই ব্যয় সমন্বয়ের জন্য সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে ৯০ জন জেলের চাল আত্মসাতের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “জেলে চাল বিতরণে পরিবহন খরচ বাবদ উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো বিধান নেই। ইউপি সদস্যদের সম্মানি ভাতা থেকে এ ধরনের খরচ সমন্বয়েরও কোনো নিয়ম নেই। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।