জয়নাল আবেদীন: রংপুরে তিস্তা নদীর সংরক্ষিত বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বাঁধের প্রায় ২০ মিটার ব্লক ধ্বসে নদীতে চলে গেছে। এতে করে হুমকির মুখে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ, সড়কসহ বসতবাড়ি। ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীতে জিও ব্যাগ ফেললেও নদীপাড়ে আতংঙ্ক কাটেনি। ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবী জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্থরা।
জানা যায়, উজানের ঢল কমে আসায় তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাতে গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় তিস্তা নদীর সংরক্ষিত ডান তীরে ভাঙ্গন দেখা যায়। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ মিটার অংশের ব্লক ধ্বসে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ, সড়ক, বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং শহর রক্ষার গ্রোয়েন বাঁধও ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে। খবর পেয়ে রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শনিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেললে বাঁধের ভাঙ্গন কিছুটা কমে যায়। অপরদিকে চলতি বছর তিস্তার ভাঙ্গনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের কাচারীপাড়া ও চর বাগডোহরা। ইতোমধ্যে দুই গ্রামের ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত, পুকুর, রাস্তা ঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আতংঙ্কে দিন কাটছে দুই গ্রামের শতাধিক পরিবারের।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার বাসিন্দা শামীম মিয়া বলেন, নদীর তলদেশ পলিতে ভরাট হওয়ায় তিস্তার ডান ও বাম দুই তীরের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তাই বর্ষায় নদী উজানের পানি ধারণ করতে পারছে না। ফলে পানির চাপ নদীর দুই তীরে গিয়ে পড়ায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙ্গন বন্ধ করতে হলে নদী ড্রেজিংয়ের কোন বিকল্প নেই। কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর ডানতীরে বাঁধ দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় ভাঙ্গন দেখা গেছে।
তিস্তায় পলি পড়ে বড় বড় চর তৈরী হচ্ছে। যার ফলে পানি কমার সাথে এসব তীরে আঘাত আসছে। ইতোমধ্যে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কাজ শুরু হয়েছে। নোহালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারী পাড়া ও ৭নং ওয়ার্ডের বাগডোহরা গ্রামের ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখনও শতাধিক পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন রোধে কাজ করছে।রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, আমিসহ আমাদের দলের পক্ষ থেকে সংসদে ও রাজপথে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দাবী জানানো হয়েছে। দ্রুত এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদী ভাঙ্গনে প্রতি বছর মানুষকে সর্বস্ব হারা হতে হবে না। মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে।
আমি ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছি। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

