কুয়াকাটায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আলোচনা সভা ও অবস্থান কর্মসূচি

0
কুয়াকাটায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আলোচনা সভা ও অবস্থান কর্মসূচি

কলাপাড়া প্রতিনিধি : জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাদ্যের মোড়কে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ উল্লেখসহ সুস্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কবাণী সংযুক্ত করার দাবিতে কুয়াকাটায় আলোচনা সভা ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে এসএসডিপি, কুয়াকাটা, পটুয়াখালীর উদ্যোগে এবং Citizen Network-এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মির্জা শাহরান হোসাইন। বিশেষঅতিথি ছিলেন কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু,কুয়াকাটা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাজী সাঈদ,কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির প্রমুখ।

সভায় নিরাপদ খাদ্য বিষয় আলোকপাত করেন, এনজিও সংস্থা সাউদার্ন সোসিও-ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ( এসএসডিপি) নির্বাহী পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান। এ সময় পটুয়াখালীর নমুনা সংগ্রহ সহকারী রাকিবুল হাসানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাদ্যের মোড়কে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী চাই—এই দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ জনস্বাস্থ্যের জন্য নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ভোক্তাদের সচেতনভাবে খাদ্যপণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কে এসব উপাদানের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সতর্কবাণী সংযুক্ত করা জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের লেবেল সহজবোধ্য, স্পষ্ট ও তথ্যসমৃদ্ধ হলে ভোক্তারা পণ্য কেনার আগে এর পুষ্টিমান ও ক্ষতিকর উপাদান সম্পর্কে সহজেই জানতে পারবেন। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোক্তার অধিকার ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খাদ্যপণ্যের তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, খাদ্যের মোড়কে এসব উপাদানের পরিমাণ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ এবং কার্যকর স্বাস্থ্য সতর্কবাণী নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

পরে এ দাবির সমর্থনে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা। আলোচনা সভা শেষে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি স্মারক লিপি প্রদান করেন।