লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সেগুন গাছ চুরি

0
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে চুরিকৃত সেগুন গাছ

কমলগঞ্জ প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া স্টিল ব্রিজ এলাকার শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে একটি বিশালাকৃতির সেগুন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৭ ফুট পরিধির গাছটির বাজারমূল্য এক লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র গাছটি কেটে ট্রাকে করে পাচার করে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ত্রিপল ঢাকা একটি হলুদ রঙের ‘ডায়না’ ট্রাক দ্রুতগতিতে উপজেলা চৌমুহনীর দিকে যেতে দেখা যায়। তবে ওই ট্রাকেই চুরি হওয়া গাছ বহন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

ঘটনার সময় জানকিছড়া গেটে বনকর্মী ও স্থানীয় বন টহল দলের সদস্য দায়িত্বে ছিলেন বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে প্রধান ফটকেও টহল পুলিশের সঙ্গে বন বিভাগের কর্মকর্তা অবস্থান করছিলেন। ফলে নিরাপত্তার মধ্যেও এত বড় গাছ কীভাবে কেটে সরিয়ে নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জের ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল হাসান বলেন, ভোররাতে চোরচক্র সড়কের পাশ থেকে সেগুন গাছটি কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। রাতে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একে একে বক্তব্য রেকর্ড করা হচ্ছে। কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সবাই মিলে রক্ষা করতে হবে। বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লাউয়াছড়ায় এর আগেও মূল্যবান গাছ চুরির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরেও উদ্যানের বিভিন্ন এলাকায় গাছের কাটা গোড়া পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সর্বশেষ ঘটনাটি বনাঞ্চলের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, চুরি হওয়া কাঠ দ্রুত উদ্ধার, জড়িতদের শনাক্ত এবং রাতে বনাঞ্চলে টহল জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো বনকর্মীর সম্পৃক্ততা বা দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।