‘সন্তানের বাবার পরিচয় চাই, প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট হোক’: দুবাই ফেরত নারীর আকুতি

0
‘সন্তানের বাবার পরিচয় চাই, প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট হোক’: দুবাই ফেরত নারীর আকুতি

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী মো. বাহারের বিরুদ্ধে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে বিদেশে নিয়ে ধর্ষণ, সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করা এবং পরবর্তীতে মা ও সন্তানকে ফেলে পালিয়ে আসার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতা আসমা আক্তার মুক্তা নামের ওই নারীর দাবি, তার সাত মাস বয়সী শিশু সন্তান মারাত্মক অসুস্থ হলেও অভিযুক্ত প্রবাস স্বামী তার কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না এবং চিকিৎসার খরচ বহন করছেন না।

ভুক্তভোগী আসমা আক্তার মুক্তার বিবরণ অনুযায়ী, মো. বাহার বিয়ের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েই তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের কথা বলে মুক্তাকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামীকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কাবিন বা বিয়ে সম্পন্ন করেননি বাহার। অভিযোগ উঠেছে, দুবাইয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিনের পর দিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

একপর্যায়ে মুক্তা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বাহার বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য তাকে গর্ভপাতের প্রচণ্ড চাপ দেন। পরবর্তীতে দেশে গুরুতর অসুস্থ এক বন্ধুকে দেখতে আসার বাহানায় মুক্তাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফেরেন বাহার। কিন্তু দেশে পা রাখতেই মুক্তাকে তার বাপের বাড়ি বাগেরহাটে পাঠিয়ে দিয়ে নিজের সব যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেন তিনি।

মুক্তার অভিযোগ, এবারই প্রথম নয়; ইতিপূর্বে ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিও বাহােরের প্ররোচনায় ওষুধ খাইয়ে তার গর্ভের আরেকটি সন্তান নষ্ট করা হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে মুক্তা জন্ম দেন এক পুত্রসন্তানের, যার বর্তমান বয়স সাত মাস। সন্তানটি অসুস্থ হওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়ে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ওই নারী।

বাগেরহাটের বাবার বাড়িতে অবস্থানরত মুক্তা অভিযোগ করেন, তিনি অধিকার আদায়ে সুবর্ণচরে বাহারের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তাকে হত্যা করতে স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্রকে ১৪ লাখ টাকা সুপারি দেওয়া হয়েছে জানতে পেরে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযোগ উঠেছে, বাহার সন্তানের পিতৃপরিচয় না দিয়ে বিষয়টি ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে রফা-দফা করতে প্রস্তাব পাঠান। তবে ভুক্তভোগী নারী টাকার চেয়ে সন্তানের পিতৃপরিচয় ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

এদিকে, বাহারের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা অস্বীকার না করলেও ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, এই সম্পর্কের কারণে তার সংসারে টানাপোড়েন সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি স্থানীয় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা ঘটনা শুনেছেন জানিয়ে বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনের মাধ্যমে অভিযুক্ত বাহারের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় থাকা আসমা আক্তার মুক্তা বলেন, “আমি আমার সন্তানের বাবার স্বীকৃতি চাই। প্রয়োজনে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করা হোক, যাতে আসল সত্য বেরিয়ে আসে। আমার সন্তান যেন ভবিষ্যতে পিতৃপরিচয়হীনতার গ্লানি নিয়ে বড় না হয়। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত প্রবাসী মো. বাহারের মুঠোফোন ও বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সার্বিক বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান জানান, “এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”