তাহিরপুর প্রতিবেদক: ক্রিকেট খেলার বল অটোরিকশায় লাগাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শুরু হওয়া বিরোধ গড়িয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। মঙ্গলবার রাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে জড়ো করার পর বুধবার দুপুরে পাঁচ গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ,পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে।স্থানীয়দের দাবি,এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত তাহিরপুর পুলিশ সার্কেল কার্যালয়ের সামনে, তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক ও শনির হাওর এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।সদর ইউনিয়নের বীরনগর,জয়নগর, ধুতমা ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মমিসিংঙ্গাহাটি (মধ্য তাহিরপুর) গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষের সময় দুটি দোকান ভাঙচুর ও একটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ক্রিকেট খেলার সময় বল গিয়ে একটি অটোরিকশায় লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কয়েকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে ধাপে ধাপে উভয় পক্ষের কয়েকজনকে মারধরের ঘটনায় বিরোধ আরও ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে সংঘবদ্ধ করা হয়। এ ঘোষণার পর বুধবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে দুপুরে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

