
জয়নাল আবেদীন্: রংপুর লায়ন্স ক্লাব অফিস ভাংচুর ও দখল নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনসহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এনিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে তিনটি নির্দেশনা সম্বলিত গণবিজ্ঞপ্তি জারী করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। উভয়পক্ষ একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান করছে।সোমবার সকালে রংপুর নগরীর একটি হোটেল মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি এনামুল হক সোহেল। তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ অক্টোবর বহিরাগতরা লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজে এসে নৈরাজ্য চালিয়েছে। সিকিউরিটি ইনচার্জকে মারধর করেছে। এনিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়েছে। এনিয়ে আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজে যারা নৈরাজ্য চালিয়ে ক্লাব দখলের চেষ্টা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মঞ্জিল মুরাদ লাভলু, বানিউল আদম বাবু, শরিফুল ইসলাম বাবু পাষ্ট প্রেসিডেন্ট নাসরিন হক ববি সহ অন্যরা।
অপরদিকে দুপুরে নগরীর আরেকটি হোটেলে নিজেদের দাবি করা লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফরিদ আহমেদ রুমি সংবাদ সম্মেলন করে জানান, লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এনামুল হক সোহেল প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক হয়ে সীমাহীন দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। এর মধ্যে জমি ক্রয়ে বিক্রেতার নামে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বাহক চেক ইস্যু করে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার মাধ্যমে তা ক্যাশ করিয়েছেন তিনি। জমির রেজিস্ট্রি দলিল মূল্য ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা হলেও সরকারী গেইন ট্যাক্স ও আয়কর বাবদ ৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এনামুল হক সোহেল ও তার চক্র অসদুপায়ে আত্মসাত করেছে। টেন্ডার ও এস্টিমেট ছাড়াই ২২টি চেকে ভবন নির্মাণ ও লিফট ক্রয়ের নামে ৫ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪৬২ টাকা এবং লিফট ক্রয় বাবদ ২৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে।
এছাড়া সরকারী ভ্যাট, ট্যাক্স ও ঠিকাদারী লভ্যাংশ আত্মসাত, বিভিন্ন বিল-ভাউচার অডিটে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ, লিফট ক্রয়ে দরপত্রে জালিয়াতি, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সহযোগিতায় গঠিত এলসি ফাউন্ডেশনের অর্থ আত্মসাত, প্লান অনুমোদনে জালিয়াতি এবং অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণ, ২৫ থেকে ২৭ শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে প্রভাষক পদে ১৫ লাখ, সহকারী শিক্ষক পদে ১০ লাখ এবং অন্যান্য পদে ৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,নিজেকে দাবি করা ক্লাবের পরিচালক নাজমুল আলম নাজু, সেক্রেটারী আকলাকুল ইসলামসহ অন্যরা।রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মুহঃ মাহবুবুর রশীদ বলেন, লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং সার্বিক জনস্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্কুলের অভ্যন্তরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি ব্যতিত অন্যকোন ব্যক্তি প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকারে নির্ধারিত শ্রেণির ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সেই সাথে গণবিজ্ঞপ্তি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান পুলিশ কমিশনার।
জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজে অবস্থিত লায়ন্স ক্লাবে কথিত প্রেসিডেন্ট ফরিদ আহমেদ রুমি গ্রুপ তালা ভেঙ্গে নতুন তালা লাগিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর এনামুল হক সোহেল গ্রুপ এসে ক্লাব কক্ষের সেই তালা ভেঙ্গে নতুন তালা লাগিয়ে ক্লাবটি পুনঃদখলে নেয়। লায়ন্স ক্লাব দখল-পাল্টা দখলের বিষয়টি টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।
