কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে জিম্মি দশা থেকে ৫৭ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই বীরত্বপূর্ণ অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) শাহাদাতবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এ সময় ৫ জন মানবপাচারকারীকে আটক এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, রঙ্গীখালীর গহিন পাহাড়ি এলাকায় ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী চক্র প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে জিম্মি করে রেখেছিল। এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ যৌথ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যৌথ বাহিনী আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারী চক্রের সশস্ত্র সদস্যরা কোনো সময় না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। জীবন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যৌথ বাহিনীও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেয়, যার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অভিযان চলাকালে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকায় যৌথ বাহিনীর দল তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেশমাতৃকার সেবায় ও মানুষের জীবন রক্ষার্থে এই তরুণ সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ দেশবাসীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অভিযানের একপর্যায়ে যৌথ বাহিনী রঙ্গীখালী পাহাড়ের আস্তানা থেকে জিম্মি অবস্থায় থাকা মোট ৫৭ জন নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এছাড়া, অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের ৫ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে যৌথ বাহিনী ১টি পিস্তল, ১টি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৪ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।
বাকি পলাতক পাচারকারীদের গ্রেফতারে পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জিম্মিদশা মুক্তির মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও মহৎ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ উৎসর্গকারী বীর সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে। এক শোকবার্তায় সেনাবাহিনী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।

