পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটিতে মিলল ধারালো ব্লেড, টনক নড়ল প্রশাসনের

0
পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটিতে মিলল ধারালো ব্লেড, টনক নড়ল প্রশাসনের

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগ এখন চরম ঝুঁকিতে! পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণকৃত একটি পাউরুটির ভেতর থেকে আস্ত একটি ধারালো ব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে। কোমলমতি এক শিশুর খাবারে এমন প্রাণঘাতী বস্তু পাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে সরকারি এই খাদ্য কর্মসূচির মান নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে, দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের ১১৬ নম্বর প্রধানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে প্রথম শিফটের ছুটি শেষে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার স্কুল ফিডিংয়ের নির্ধারিত পাউরুটির প্যাকেটটি নিয়ে বাড়ি ফেরে। কিন্তু প্যাকেট খুলে রুটি খাওয়ার সময় সেটি শক্ত ঠেকে এবং ভেতরে কিছু একটা চকচক করতে দেখা যায়। ভালোভাবে পরীক্ষা করতেই শিশুটির নজরে আসে একটি আস্ত ধারালো ব্লেড! মুহূর্তেই পরিবার ও আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর ক্ষুব্ধ স্বজনরা ব্লেডসহ পাউরুটি নিয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বরুণ রায় তাৎক্ষণিকভাবে পাউরুটিটি সংগ্রহ করে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী শিক্ষক বরুণ রায় গণমাধ্যমকে জানান, অভিভাবকরা স্কুলে এসে অভিযোগ জানানোর পর বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয় এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী নমুনাটি অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা প্যাকেটে এমন কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রধানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুফিয়া বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, পঞ্চগড় জেলায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইএসডিও (ESDO)-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের এমন রহস্যজনক নীরবতায় জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

শিশুর খাবারে ব্লেড পাওয়ার এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয় এবং দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন জানান, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাউরুটিটি জব্দ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তিনিই বিস্তারিত বলতে পারবেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদ্বেগের। এ ঘটনায় দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিভাবকদের দাবি, স্কুল ফিডিংয়ের মতো একটি সংবেদনশীল প্রকল্পে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ এবং শিশুদের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার পেছনে বড় কোনো অনিয়ম লুকিয়ে রয়েছে। অনতিবিলম্বে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।