‘স্বত্ব অস্বীকার থেকে তালাক ও কাবিননামা প্রকাশ’: সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি ও ফারজানা আফরোজের দ্বন্দ্বে নতুন মোড়

0
‘স্বত্ব অস্বীকার থেকে তালাক ও কাবিননামা প্রকাশ’: সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি ও ফারজানা আফরোজের দ্বন্দ্বে নতুন মোড়

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি এবং ফারজানা আফরোজ নামক এক নারীকে ঘিরে চলা চলমান ব্যক্তিগত বিতর্ক এখন নতুন মাত্রা রূপ নিয়েছে। ফারজানা আফরোজ নিজেকে রনির স্ত্রী দাবি করে গণমাধ্যমে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়ার পর, এবার ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তালাক নোটিশ, কথিত কাবিননামা এবং আইনি পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন গোলাম মাওলা রনি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে তিনি এই তথ্যগুলো তুলে ধরেন।

এর আগে ফারজানা আফরোজ দাবি করেছিলেন যে, গোলাম মাওলা রনি চট্টগ্রামে গিয়ে তাকে কাবিননামা মূলে সবার সামনে বিয়ে করেছেন। এমনকি রনির মা বা শাশুড়িও নাকি ৬-৭ মাস তার সঙ্গে ছিলেন। রনি তাকে অস্বীকার করলেও বাস্তবতায় কোনো পরিবর্তন আসবে না দাবি করে তিনি বলেন, রনি পারিবারিক বা বাহ্যিক কোনো চাপে পড়ে তাকে অস্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফারজানার এমন দাবির পরই ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে কড়া জবাব দেন গোলাম মাওলা রনি। ওই নারীকে নিজের স্ত্রী সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি তাকে সাতক্ষীরা-সাতকানিয়ার স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেন।

শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে গোলাম মাওলা রনি পুরো ঘটনা তুলে ধরে জানান কিভাবে তাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। রনির স্ট্যাটাসের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

রনি জানান, ইউনূস জমানার প্রভাবে উজ্জীবিত হয়ে ওই নারী হঠাৎ তার অফিসে হাজির হন। তখন তিনি বাধ্য হয়ে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডাকেন। পুলিশ বিয়ের প্রমাণপত্র দেখতে চাইলে ওই নারী কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি এবং পরে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চম্পট দেন।

পরবর্তীতে চক্রান্তের দ্বিতীয় অংশ হিসেবে ওই নারী রনির ধানমন্ডির বাসায় হাজির হন। তখন রনি শাহবাগ থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে তার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দুই ব্যক্তিকে আনা হয় এবং পুলিশ কথিত কাবিনের একটি কপি উদ্ধার করে।

রনির দাবি, আইনজীবীদের পরামর্শ ছিল কাবিন ও এর পেছনের জালিয়াতি আদালতে প্রমাণ করতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং চক্রটি তাকে কোর্টে জিম্মি করতে চায়। এর চেয়ে কাবিন অনুযায়ী আইনগতভাবে তালাক দিয়ে এবং দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করে ঝামেলা চুকিয়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সেই পরামর্শ অনুযায়ীই তিনি শাহবাগ থানায় মামলা করেন, তালাকের নোটিশ পাঠান এবং রেজিস্ট্রি মতে টাকা পরিশোধ করেন।

রনি উল্লেখ করেন যে, এই পুরো ঘটনাটি তার পরিবার, নিকটাত্মীয় এবং আপনজনরা প্রথম দিন থেকেই জানতেন। ফলে তার মানসিক ও নৈতিক শক্তি অটুট ছিল।

স্ট্যাটাসে রনি অভিযোগ করেন, প্রবাসী ইউটিউবার ইলিয়াস ও বনি আমিনসহ একটি চক্র তাকে হেয় করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ভিডিও ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিছু নেতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ জমানার অভিজ্ঞতা টেনে গোলাম মাওলা রনি বলেন, তৎকালীন সময়ে তার মতো বহু মানুষকে কীভাবে বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও চক্র জিম্মি করত, তার প্রকৃত রূপ দেখতে চাইলে যে কেউ শাহবাগ থানায় করা তার মূল অভিযোগটি পড়তে পারেন।

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সাবেক এই সংসদ সদস্য দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, তার জীবন সবার জন্য উন্মুক্ত। গোপন বা অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস তিনি করেননি এবং জীবনের সব ঝড় সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করবেন।