জয়নাল আবেদীন: রংপুর বিভাগের সাত জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ৭২টি ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে প্রায় ২কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে। একই সঙ্গে ২১টি অবৈধ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ইটভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পরিবেশগত ক্ষতি রোধে সেসব ভাটার চিমনি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
দুই হাজার পচিশ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি মাসের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে সবচেয়ে বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। সেখানে ২৬টি ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া দিনাজপুরে ১৪টি, পঞ্চগড়ে ছয়টি, নীলফামারীতে সাতটি, রংপুরে পাঁচটি, গাইবান্ধায় পাঁচটি এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় দুইটি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক নুর আলম এ্ প্রতিনিধিকে বলেন চিহ্নিত অধিকাংশ ইটভাটা বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছিলো তারা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। শুধু তাই নয় অনেক ইটভাটায় এখনো আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির পরিবর্তে পুরনো ও নিষিদ্ধ চুল্লি ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা আশপাশের পরিবেশ, কৃষিজমি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। এছাড়াও কোথাও কোথাও উর্বর কৃষিজমি নষ্ট করে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমির খুব কাছেই ইটভাটা চালু রাখা হয়েছে, যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এসব গুরুতর অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক নুর আলম আরো বলেন, রংপুর বিভাগ জুড়ে অবৈধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা

