কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রেমিকার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাঁকে ডেকে এনে দুই বন্ধুর সহায়তায় গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জাহিদ হাসান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকার এক জনমানবহীন ভুট্টাক্ষেতে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে কচাকাটা থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ হাসান উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ধারিয়ার পাড় গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাহিদের সঙ্গে ওই তরুণীর মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। দীর্ঘদিনের আলাপের পর গত সোমবার সন্ধ্যায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় জাহিদ।
ভুক্তভোগী তরুণীর বর্ণনা অনুযায়ী, ঢাকা যাওয়ার পথে জাহিদ ও তাঁর বন্ধুরা সুপরিকল্পিতভাবে পথ পরিবর্তন করে। গভীর রাতে আয়নালেরঘাট এলাকায় দুধকুমার নদীর তীরের নির্জন চর লুছনি এলাকায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জাহিদ এবং তাঁর বন্ধু বাবু ও অজ্ঞাত আরও একজন মিলে একটি ভুট্টাক্ষেতে পালাক্রমে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
বিপদে পড়া ওই তরুণী পরে প্রাণভয়ে চিৎকার করতে করতে গভীর রাতে এলাকার একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
পরদিন মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে কচাকাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতেই নাগেশ্বরীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে প্রধান আসামি জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন জানান, “বিষয়টি জেলা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আমরা এরই মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। অন্য দুই পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ভুক্তভোগী তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এলাকায় এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

