ডিজিএফআই-এর সাবেক ডিজি শেখ মামুন খালেদ গ্রেপ্তার: আয়না ঘরের রূপকার ও শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
ডিজিএফআই-এর সাবেক ডিজি শেখ মামুন খালেদ গ্রেপ্তার: আয়না ঘরের রূপকার ও শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (২৫ মার্চ) গভীর রাতে তাঁর নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

গোয়েন্দা সূত্র ও বিভিন্ন অভিযোগ থেকে জানা যায়, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান প্রধান অভিযোগগুলো হলো: ডিজিএফআই-কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার এবং গুম-খুন ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়না ঘর’ তৈরির পেছনে তাঁর সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের শতকোটি টাকা আত্মসাৎ এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের নেপথ্য কারিগর হিসেবে তাঁকে চিহ্নিত করা হয়। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা সুসংহত করতে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল বলে জনমনে ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের মে মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শেখ মামুন খালেদ ও তাঁর স্ত্রী নিগার সুলতানা খালেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, তিনি অবৈধ শেয়ার ব্যবসা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্ত চলাকালীন তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কায় আদালত তাঁর বিদেশ গমনে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন।

লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ডিজিএফআই-এর গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন: পরিচালক (ডিজিএফআই): ডিসেম্বর ২০০৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত। মহাপরিচালক (ডিজিএফআই): ২৩ জুন ২০১১ থেকে ৭ মার্চ ২০১৩ পর্যন্ত।

বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিগত কয়েক দশকের অনেক চাঞ্চল্যকর গোপন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।