দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও দুর্ধর্ষ মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের অন্যতম হোতা মো. মুসা ইব্রাহিম (২৭) এবং তার সহযোগী আয়শা সিদ্দিকাকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক দুজনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে দিনাজপুর শহরের কালিতলা সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চক্রের মূল চালিকাশক্তি মুসা ইব্রাহিম ও তার প্রেমিকা কাম সহযোগী আয়শা সিদ্দিকাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
মো. মুসা ইব্রাহিম দিনাজপুর সদর উপজেলার ১ নম্বর চেহেলগাজী ইউনিয়নের বড়ইল গ্রামের মৃত কছিম উদ্দীনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা ও অপহরণসহ মোট ২৪টি মামলা রয়েছে। আয়শা সিদ্দিকা শহরের উপশহর ৮ নম্বর ব্লকের মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি মূলত ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে টার্গেট ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে আনার কাজ করতেন।
পুলিশ জানায়, মুসা ইব্রাহিম একজন পেশাদার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তার প্রধান কৌশল ছিল সুন্দরী তরুণী আয়শা সিদ্দিকাকে ব্যবহার করা। আয়শা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। গত ২৩ এপ্রিল ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের যুবক ধনঞ্জয়কে একইভাবে দিনাজপুর শহরে ডেকে আনেন আয়শা।
এরপর মুসা ও তার দল ধনঞ্জয়কে জিম্মি করে পরিবারের কাছে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধনঞ্জয়কে উদ্ধার এবং মুসার ভাই শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করলেও মুসা পালিয়ে যান। ওই সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলাও চালিয়েছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম বলেন, “মুসা ইব্রাহিম একজন মূর্তিমান আতঙ্ক। তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপে দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। তারা বহু মানুষকে প্রেমের জালে ফেলে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে।”
অভিযানে উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম: ২টি ধারালো রামদা ও ১টি হাঁসুয়া। ১টি ছোড়া ও ৩টি মোবাইল ফোন। অপরাধে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল।
পুলিশ আরও জানায়, এই চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত এবং তারা আর কতজনকে ফাঁদে ফেলেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুসা ও আয়শার গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

