স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ও ‘চুড়ি’ পরার পরামর্শ ; ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হলে লংমার্চঃ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

0
স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ও ‘চুড়ি’ পরার পরামর্শ ; ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হলে লংমার্চঃ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি ঠেকাতে ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবন রক্ষা করতে না পারলে সরকারের দায়িত্বশীলদের পদে থাকার যোগ্যতা নেই।

মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কলেজছাত্র মুরসালিন ও নবীর হোসেনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ এবং তাদের কবর জিয়ারত শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের মন্ত্রীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সীমান্তে একের পর এক লাশ পড়ছে, অথচ সরকার নীরব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শুধু সংবিধানের দোহাই দেন, কিন্তু সার্বভৌমত্ব বোঝেন না। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায় এড়ানোর রাজনীতি করছেন। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে এই দুই মন্ত্রীর লাল-সবুজ চুড়ি পরে ঘরে বসে থাকা উচিত।”

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার চেয়ে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দিতে বেশি ব্যস্ত।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে এনসিপি রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়ে ব্রিফিংয়ে জানানো হয় অনতিবিলম্বে দেশের ৩২টি সীমান্তবর্তী জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। সীমান্তে নিহতদের পরিবারগুলোকে নিয়ে ঢাকায় একটি বিশাল মহাসমাবেশ আয়োজন করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সীমান্ত অভিমুখে লংমার্চের ডাক দেওয়া হবে। প্রতিটি সীমান্তবর্তী জেলায় স্থানীয়দের নিয়ে ‘সীমান্ত সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করবে এনসিপি।

ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলছে। তাদের ‘দাদাগিরি’ আর মেনে নেওয়া হবে না। তিনি মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোতে মাদক উৎপাদন হচ্ছে এবং তা সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। অনেক এমপি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলেই রাজধানী পর্যন্ত অনায়াসে মাদকের চালান পৌঁছে যাচ্ছে। এনসিপি ক্ষমতায় এলে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে বড় ধরনের খাল খনন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হবে।

বিজিবির কার্যক্রমের সমালোচনা করে এনসিপির মুখ্য সংগঠক বলেন, বিজিবি সীমান্ত রক্ষা করতে না পেরে উল্টো নিহতদের ওপর দোষ চাপিয়ে ভারতীয়দের সুরেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক। একইসাথে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার মুখে ভয়ের কথা অস্বীকার করলেও সীমান্তে রক্তপাত বন্ধে তাদের কোনো কার্যকর অবস্থান নেই।

সফর ও ব্রিফিংকালে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য উইং সমন্বয়ক ডা. আশরাফ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, মোস্তাক আহমেদ শিশির এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আদেলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।