পিরোজপুরে গৃহবধূ ও কথিত প্রেমিকের নৃশংসতা: অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় শাশুড়িকে হত্যা!

0
পিরোজপুরে গৃহবধূ ও কথিত প্রেমিকের নৃশংসতা: অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় শাশুড়িকে হত্যা!

পিরোজপুর প্রতিনিধি: অনৈতিক পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় এক বৃদ্ধা শাশুড়িকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার পুত্রবধূ ও কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

নিহত নমিতা রানী পাল (৬০) ওই এলাকার রাধেশ্যাম চন্দ্র পালের স্ত্রী।

এই ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে জড়িত সন্দেহে আজ শুক্রবার (২৯ মে) অভিযুক্ত পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল (৩২) এবং তার ফুফা তাপস দেবনাথকে (৪৪) আটক করেছে জিয়ানগর থানা পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কথিত প্রেমিক কামাল পঞ্চায়েত পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাধেশ্যাম চন্দ্র পালের ছেলে শ্যামল চন্দ্র পালের স্ত্রী বন্যা রানী পাল দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার কামাল পঞ্চায়েত নামের এক ব্যক্তির সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিলেন। বিষয়টি শাশুড়ি নমিতা রানী পালের নজরে এলে তিনি তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরকীয়া সম্পর্কের এই চরম অবসান ও লোকলজ্জার হাত থেকে বাঁচতেই শাশুড়িকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুপরিকল্পিত ব্লু-প্রিন্ট বা নকশা করা হয় বলে পরিবারের জোরালো দাবি।

নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, নমিতা রানীর মরদেহে চরম ধস্তাধস্তি ও পাশবিক নির্যাতনের ছাপ স্পষ্ট। তার শরীরে একাধিক নখের আঁচড় এবং গলায় গভীর আঘাতের দাগ রয়েছে। ধস্তাধস্তির তীব্রতায় নিহতের হাতের শাখা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ঘরের দেয়ালে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ মিলেছে। এসব আলামত থেকে স্পষ্ট যে, তাকে জোরপূর্বক দেয়ালের সাথে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল বলেন, “ঘটনার সময় আমি ঘরে ছিলাম না। বাইরে থেকে ফিরে এসে ঘরের সদর দরজা খোলা দেখতে পাই। ভেতরে ঢুকতেই স্ত্রীর নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিলে, ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে কামাল পঞ্চায়েতকে পালিয়ে যেতে দেখি।” নিহতের মেয়ে রঞ্জিতা রানীও অভিযোগ করে বলেন, “পরকীয়া সম্পর্কের গোপন কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই আমার মাকে গলা টিপে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে।”

জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহব্বত খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুত্রবধূ বন্যা রানী ও বরগুনার বাসিন্দা তার ফুফা তাপস দেবনাথকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পলাতক মূল অভিযুক্ত কামাল পঞ্চায়েতকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চিকিৎসাধীন।”