চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ কারাগারে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম অঞ্চলের ত্রাস মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলা কাটা মোবারক’ অবশেষে ধরা পড়েছেন। তবে সেই ধরা পড়ার দৃশ্যটি ছিল কোনো টানটান উত্তেজনার অ্যাকশন থ্রিলারের চেয়ে কম কিছু নয়।
বুধবার ভোরের দিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোবারকসহ তাঁর তিন প্রধান সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানে পুলিশের ওপর অতর্কিত গুলি চালায় মোবারক। তবে ভাগ্যক্রমে সপ্তম গুলিটি পিস্তলে আটকে গেলে অলৌকিকভাবে রক্ষা পান পুলিশ কর্মকর্তারা এবং শেষরক্ষা হয়নি এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর।
পুলিশ লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর ওয়াশরুমের ওপরের ফলস ছাদে আত্মগোপনে থাকা মোবারক পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্রাজিলের তৈরি ‘তরাস’ পিস্তল দিয়ে একের পর এক ৬টি গুলি চালান। একটি গুলি সরাসরি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের কানের পাশ দিয়ে চলে যায়। পুলিশও পাল্টা ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সপ্তম গুলিটি করতে গেলে মোবারকের পিস্তলটি জ্যাম (আটকে) হয়ে যায়, আর তখনই পুলিশ তাঁকে ছাদ থেকে টেনে নামিয়ে গ্রেপ্তার করে।
আহত পুলিশ সদস্য (৫ জন) চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ, ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান, কনস্টেবল মামুনুর রশিদ, শাহ নেওয়াজ এবং সাদ্দাম হোসেন।
মোবারকের ব্যবহৃত তরাস পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের নিজস্ব অস্ত্র। অতিরিক্ত ৩টি পিস্তল, পিস্তলের ২৩টি তাজা গুলি এবং শটগানের ৪টি গুলি।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, মোবারক দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে তাঁর মূল ঘাটি ও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতেন। গত ২৯ জুলাই মূল প্রধান ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হওয়ার পর পাহাড়ের কাঞ্চননগর এলাকায় পুলিশ কয়েক দফা অভিযান চালায়। পুলিশি সাঁড়াশি অভিযানের মুখে মোবারক পাহাড়ে নিজেকে অনিরাপদ মনে করে লেলাং ইউনিয়নের একটি পরিচিত বসতবাড়ির ফলস ছাদে এসে আশ্রয় নেন।
দেড় ঘণ্টা ধরে পুলিশ লোহার দরজা খোলার তাগিদ দিলেও না খোলায় শেষপর্যন্ত ভোর সাড়ে চারটায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে পুলিশ। ওয়াশরুমের ফলস ছাদ থেকে একে একে তাঁর তিন সহযোগীকে বের করার পর মোবারককে সেখান থেকেই গুলি চালানো অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম জানান, মোবারক ফটিকছড়ি ও রাউজান এলাকার ত্রাস ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রাউজানের চাঞ্চল্যকর যুবদল নেতা মাসুদ হত্যাসহ একাধিক সশস্ত্র হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে গত ১৪ মে চাঁদা না পেয়ে কাঞ্চননগরের ব্যবসায়ী মো. আবছার উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছিলেন মোবারক। আবছার উদ্দিনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘গলা কাটা মোবারক’ গ্রেপ্তার হওয়ায় পুরো ফটিকছড়ি, রাউজান এবং চট্টগ্রাম নগরবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আদালত ইতিমধ্যে দুই মামলায় তাঁর ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

