রাজশাহী প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধ করতে বাধা, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোঃ বুলবুল নামে এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে তিনি ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করেছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বুলবুল অভিযোগ করেন, তিনি বোয়ালিয়া থানার রামচন্দ্রপুর এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর মা মনোয়ারা বেগমের পৈত্রিক ও বৈধ সূত্রে পাওয়া জমি দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তাঁর ভাই ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে তাঁরা একটি দুইতলা ভবন নির্মাণ করছেন, যার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বুলবুলের অভিযোগ, ভবন নির্মাণ শুরুর সময় কোনো আপত্তি না থাকলেও দ্বিতীয় তলার কাজ শুরু হওয়ার পর তাঁর খালাতো ভাই-বোন আনিসুর, রেজা, অনিক, সাব্বির, বিউটি, রহিমা ও রুমাসহ কয়েকজন সম্পত্তির ওপর দাবি তুলে নির্মাণকাজে বাধা দিতে শুরু করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁরা বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে একাধিকবার হামলা ও মারধর করেছেন। লিখিত বক্তব্যে বুলবুল দাবি করেন, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য আনিসুরসহ অভিযুক্তরা তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ ঘটনায় তাঁর মা মনোয়ারা বেগম গত ৯ অক্টোবর ২০২৫ বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৬০১) করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন বুলবুল। হামলার চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র তাঁর কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী তসলিমা ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ বোয়ালিয়া মডেল থানায় জিডি (নং-১৮৫১) এবং বুলবুল নিজে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জিডি (নং-১০৯৭) করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। বুলবুলের দাবি, প্রতিপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও তা খারিজ হয়ে যায় এবং রায় তাঁদের পক্ষে আসে। এছাড়া রাজশাহী
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কাছে করা অভিযোগের শুনানিও তাঁদের অনুকূলে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে একাধিক জিডি এবং আদালতের সিদ্ধান্তের পরও স্থানীয় থানা পুলিশের কাছ থেকে কার্যকর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন বুলবুল। তাঁর দাবি, এতে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং বর্তমানে তাঁকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বুলবুল বলেন, আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চাই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্মাণকাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত আনিসুরের নিক জানতে চাইলে, তিনি গাড়ি চালাচ্ছি বলে ফোন কেটে দেন। বোয়ালিয়া থানা পুলিশের কাছ থেকে কার্যকর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা না পডাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে, বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুমা মুস্তারী বলেন, আরএমপি পুলিশের (মিডিয়া), উপপুলিশ কমিশনার মোঃ গাজিউর রহমান স্যারের সাথে কথা বলা পরামর্শ দেন।

