কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার চান্দিনায় সাড়ে চার বছরের এক কোমোলমতি শিশুকে আইসক্রিম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুজ্জামান সোহেল (৪৫) নামে এক মুদি দোকানিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে চান্দিনা থানা পুলিশ জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃত কামরুজ্জামান উপজেলার ইন্দ্রারচর গ্রামের মৃত শাহজাহান মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে শিশুটি বাড়ির পাশের সোহেলের দোকানে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গেলে তাকে একটি আইসক্রিম কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় দোকানি সোহেল। এরপর দোকানের ভেতরের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায় সে। পরে মারাত্মক আতঙ্কিত অবস্থায় শিশুটি বাড়ি ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পরিবারের কাছে বিস্তারিত প্রকাশ করে।
ভুক্তভোগী শিশুটির অভিভাবকরা জানান, মর্মান্তিক ঘটনাটি শোনার পর তারা বিচার ও প্রতিকারের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মাতব্বরদের শরণাপন্ন হন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রভাবশালী মহলটি ঘটনার বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা সুবিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার সন্ধ্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা চায়। খবর পেয়ে চান্দিনা থানার একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত সোহেলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত কামরুজ্জামান সোহেল একজন অভ্যাসে পরিণত অনৈতিক চরিত্রের লোক। এর আগেও একাধিক কোমলমতি শিশুর সঙ্গে সে বিভিন্ন সময় একই ধরনের অনৈতিক ও গর্হিত আচরণ করেছে। কিন্তু লোকলজ্জা ও সামাজিক চাপের কারণে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “শিশুর ওপর এমন নির্মম চেষ্টার খবর পেয়েই দ্রুততম সময়ে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের চেষ্টার সত্যতা মিলেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

