বগুড়ায় হাতেনাতে ধরা খেল ‘কোবরা বাহিনী’: বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ রতন পাইকার ও তার ৬ সহযোগী গ্রেপ্তার

0
বগুড়ায় হাতেনাতে ধরা খেল ‘কোবরা বাহিনী’: বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ রতন পাইকার ও তার ৬ সহযোগী গ্রেপ্তার

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার অপরাধ জগতের ত্রাস ও আলোচিত সন্ত্রাসী ‘কোবরা বাহিনীর’ অন্যতম শীর্ষ ক্যাডার মো. রতন পাইকারসহ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। একটি গ্যারেজে যুবককে আটকে রেখে নির্যাতনের সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ডিবির হাতেনাতে ধরা পড়ে চক্রটি। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে মোট ৫৭০ পিস মারাত্মক মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (০১ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেন বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য আসে যে, বেজোড়া বাজার এলাকায় আকবর আলীর একটি গ্যারেজে এক তরুণকে জিম্মি করে ‘কোবরা বাহিনীর’ সদস্যরা অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। খবর পেয়েই ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে যৌথ অভিযান চালায়। ডিবির ঝটিকা অভিযানে স্থানটি ঘেরাও করে রতন পাইকারসহ ৬ জনকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয় এবং জিম্মি যুবককে উদ্ধার করা হয়।

প্রথম দফায় গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জন হলেন মো. রতন পাইকার (৩৬), বাবু শেখ (৩২), মিরাজ মোল্লা (৩৫), সুমন মিয়া (২৮), রাজু মিয়া (২৭), রিয়াদ সাকিদার (২৭)

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বগুড়া সদর থানার কুকরুল দক্ষিণপাড়া এলাকায় অন্য এক স্থানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তাদের অন্যতম সক্রিয় সহযোগী আবুল বাশার বাপ্পীকে (২৫) আরও ৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। দুটি পৃথক অভিযান মিলিয়ে মোট সাতজন আসামিকে ডিবির জালে তোলা সম্ভব হয় এবং মোট ৫৭০ পিস ইয়াবা বাজেয়াপ্ত করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা অঞ্চলের বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘কোবরা বাহিনীর’ সক্রিয় সদস্য। এরা দীর্ঘ দিন ধরে বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিল। বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর থানায় এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা, মারামারি, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ আটটিরও বেশি গুরুতর অপরাধের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

বগুড়া ডিবির ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, “সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সাতজনের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন করে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।”