
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, শিল্প খাতের স্থায়িত্ব রক্ষা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বস্তরের প্রশাসন ও জনগণকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে দেশ অস্থিতিশীল করার যেকোনো চক্রান্ত রাজনৈতিকভাবে শক্ত হাতে মোকাবেলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
রোববার (০১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে দেশের কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ কোনো বিঘ্ন ছাড়াই সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। জনগণের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সামনে ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে অপশক্তির তৎপরতার কথা উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, “আপনারা সবাই অবহিত আছেন যে, একটি কুচক্রী মহল আগামী ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে চায়। তবে আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই—ফ্যাসিবাদী ধারার এই ষড়যন্ত্রকে রাজনৈতিকভাবেই দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করা হবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক আন্দোলন এবং রাজধানীর মিরপুরে ঘটা অপ্রীতিকর সংঘর্ষসহ দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী এই জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানান। বৈঠকে গার্মেন্টস খাতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া মূল্যায়ন এবং শিল্প এলাকায় যেকোনো বিশৃঙ্খলা রোধে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির শ্রমিক সংগঠক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাবৃন্দ।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
