কেরানীগঞ্জে জমি দখল ও ২০ লাখ টাকা চাঁদার মামলা: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮ জন পলাতক

0
কেরানীগঞ্জে জমি দখল ও ২০ লাখ টাকা চাঁদার মামলা: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮ জন পলাতক

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমি দখল এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা পরোয়ানাভুক্ত মামলায় এক বিএনপি সমর্থিত স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)। তার নাম জাহাঙ্গীর (৩৭)। তিনি কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে কেরানীগঞ্জের খাড়াকান্দি বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে এসআরবি-১০।

মামলার প্রধান আসামি কলাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান আওয়াল শিকদার। ঘটনার পর থেকে তিনিসহ মামলার আটজন আসামি পলাতক রয়েছেন।

আদালতের নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের তারানগর এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বিজ্ঞ আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, খাড়াকান্দি এলাকায় বাদীর নিজ মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হয় এবং সেখানে স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ওই জমির মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন আসামিরা। বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জমিতে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে বাধা সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চক্রটি বাদীকে ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

পরে আদালতের নির্দেশে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়। তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩৮৫, ৫০৬ সহ বিভিন্ন ধারায় আনীত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত সব আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং পরবর্তীতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত নয়জন নামীয় আসামি হলেন আওয়াল শিকদার (প্রধান আসামি), জাহাঙ্গীর (গ্রেপ্তারকৃত), নাসির উদ্দিন, মহিউদ্দিন মিলন, হৃদয়, দিপু, সজিব, হৃদয় শিকদার, আমিনুর

এসআরবি-১০ এর দল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও প্রধান আসামিসহ বাকিরা সটকে পড়েন। তবে ওয়ারেন্টভুক্ত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন সম্ভাব্য আস্তানায় পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস জানান, “এসআরবি-১০ পরোয়ানাভুক্ত আসামি জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজনৈতিক পদের আড়ালে একশ্রেণির প্রভাবশালী দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমিজমা দখল ও চাঁদাবাজি করে আসছিল। আদালতের পরোয়ানার পর পুলিশি অভিযানে একজন গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল।