বাংলাদেশ প্রতিবেদক: মূল্যস্ফীতি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে। এই বার্তা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অর্থনীতিতে ঘুরে দাড়ানোর লক্ষণ থাকলেও এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে মূল্যস্ফীতি। এ কারণে মূল্যস্ফীতির অবস্থান সংকোচনমূলক থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে স্বাভাবিক প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাংবাদিকরা বেশ কিছুদিন ধরে গভর্নরের অনুষ্ঠান বর্জন করছেন। এ কারণে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার জন্য কোনো সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে কমলেও বাংলাদেশে এখনও উচ্চ মূল্যস্ফীতিই রয়েছে। এর অন্যতম কারণ অন্য দেশের তুলনায় অনেক দেরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক দেরিতে এসে ডলারের দর ও সুদহার বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে কেবল মুদ্রা সরাবরাহের কারণেই মূল্যস্ফীতি বাড়ে-কমে তেমনটি নয়। এখানে বাজার ব্যবস্থাপনাসহ অনেক বিষয় জড়িত। ফলে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পাশাপাশি অবশ্যই বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে।
২০২৩-২৪ অর্থবছর বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে রাখার ঘোষণা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে গত জুন শেষে গড় মূল্যস্ফীতি ঠেকেছে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে। চলতি অর্থবছর মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। আর এজন্য ডলার বিক্রির মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি সরকারকে টাকা ছাপিয়ে ধার দেওয়া বন্ধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অবশ্য সঙ্কটে থাকা কয়েকটি ব্যাংককে নানা উপায়ে ধার দেওয়ায় মুদ্রা সরবরাহ কাঙ্খিত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে থাকছে না।
অর্থনীতিবিদদের অনেকে বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির বিকল্প নেই। কেননা এখন দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই প্রধান অগ্রাধিকার। যে কারণে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ কমাতে হবে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে এ সম্পর্কিত অন্য বিষয়েও সরকারকে নজর দিতে হবে।

