বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের ভাগ্য বদলে দিতে যাচ্ছে বিশাল কর্মযজ্ঞের ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প। রাজবাড়ীর পাংশায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
বুধবার (১৩ মে, ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একনেক সভা শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া খরা, নদী শুকিয়ে যাওয়া এবং লবনাক্ততার সমস্যা দূর করতে এটি একটি ‘মাস্টারমাইন্ড’ প্রকল্প। এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল এবং জনস্বার্থে আজ তা অনুমোদিত হলো। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের তিন ভাগের এক ভাগ অঞ্চল এবং ২৪টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।”
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের প্রধান কিছু বৈশিষ্ট্য হলো বাঁধের মাধ্যমে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে মৃতপ্রায় পাঁচটি নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে ৮০০ কিউসেক মিটার পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পের অধীনে ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছিল। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নকশা প্রণয়ন করে। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর বর্তমান সরকার এই মেগা প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এই ব্যারাজটি নির্মিত হলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের আমূল পরিবর্তন আসবে এবং দেশের জিডিপিতেও বড় প্রভাব পড়বে।

