অর্থনৈতিক প্রতিবেদকঃ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। তবে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ মোট ৪টি প্রস্তাবিত প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত রেখে সেগুলোকে আরও অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বৈঠকে অংশ নেওয়া পরিকল্পনা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট একাধিক নীতি-নির্ধারণী কর্মকর্তা এসব সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জনস্বার্থ, ব্যয় সাশ্রয় এবং ভৌগোলিক যৌক্তিকতা অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প, প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ, অবকাঠামোগত নকশা এবং সামগ্রিক আর্থিক উপযোগিতা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান সড়ক, কার্যকর নর্দমা ব্যবস্থা ও ফুটপাত সংস্কার এবং সম্প্রসারণ প্রকল্প। নির্বাচিত কয়েকটি পৌরসভায় স্থানীয় অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানোর প্রকল্প। বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রকল্প।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পগুলোর প্রস্তাবিত বাজেট ও কাজের পরিধি পুনঃপরীক্ষা করে পরবর্তী একনেক সভায় পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৫ অক্টোবর এই একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সিডিউল নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি জাপান সফরের কারণে সে সময় বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছিল। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর নির্ধারিত পুনর্নির্ধারিত দিনে আজ অনুষ্ঠিত হলো এই শীর্ষ অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠক।
অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বরাষ্ট্র, শক্তি, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাত বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে। একনেকে অনুমোদিত ১৩টি প্রধান প্রকল্প
নিরাপত্তা ও অপারেশনাল গতিশীলতা: বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষায়িত ও অপারেশনাল যানবাহন কেনা।
জ্বালানি খাতের উন্নয়ন: তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে অনুসন্ধানী ও মূল্যায়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ‘তিতাস-৩২’ এবং ‘তিতাস-৩৩’ নামে নতুন দুটি গভীর গ্যাসকূপ খনন।
নগর ও পরিবেশ উন্নয়ন: ইনোভেশন ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প।
নদী ও জলবায়ু সুরক্ষা: বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খালের পাড় সংরক্ষণ, বেদখল মুক্তকরণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের প্রথম পর্ব।
স্বাস্থ্য ও সুপেয় পানি: বরেন্দ্র অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও সুস্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ এবং দেশের ৫টি সরকারি মেডিকেল কলেজে অত্যাধুনিক নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার স্থাপন।
আবাসন ও অবকাঠামো: ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড এলাকা আবাসিক কমপ্লেক্সে বি-টাইপ অফিসার্স বাসভবন নির্মাণ। ঢাকার জিগাতলাস্থ গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণ। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দেশজুড়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ।
বিদ্যমান সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকার নিচে ব্যয়বিশিষ্ট কিছু ছোট প্রকল্প অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী আজ একনেক সভাকে সে সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
এ ধরনের প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আধুনিক চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও সুবিধা বৃদ্ধি। শিশু-কিশোর ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ প্রকল্প। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় স্মার্ট ট্রাফিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার। ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা সম্প্রসারণ, পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন ও চিকিৎসা সুবিধা সহজীকরণ।

