কক্সবাজারে ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২

0
কক্সবাজারে ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ মাদকবিরোধী সাড়াশি অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে রেকর্ড পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫টি ধারালো দেশীয় রামদাসহ দুই শীর্ষ মাদক কারবারিকে আটক করেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের এসআরবি-১৫ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

এসআরবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার আঠারো ঘরপাড়া এলাকার সীমান্তসংলগ্ন একটি ধানক্ষেতে মাদকের একটি বড় চালান খালাস হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১৫ এর অধীনস্থ টেকনাফ সিপিসি-১ ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি বিশেষ অপারেশনাল টিম সেখানে অবস্থান নেয়।

সীমান্তবর্তী ওই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাদক পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ৯ থেকে ১০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের ঘিরে ফেলা হয়। আভিযানিক দলের আকস্মিক পদক্ষেপে চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে দুজনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন এসআরবি সদস্যরা। তবে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

পরে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের দেখানো মতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা মোট ১১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক কারবারিদের ব্যবহৃত ৫টি বড় আকারের দেশীয় রামদা জব্দ করা হয়।

অভিযানে আটককৃত মাদক কারবারিরা টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে এসআরবি। তারা হলেন মো. আবছার উদ্দীন (১৯) হ্নীলা ইউনিয়নের নাইখংখালী এলাকার সলিম উদ্দীনের ছেলে। মো. আদিল (২৬) মৌলভীবাজার এলাকার ছলিম উদ্দীনের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান দেশের অভ্যন্তরে পাচার করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে। পলাতক অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে এসআরবি-১৫ ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার ও পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা টেকনাফ রুটটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চোরাচালানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত। সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রায়ই সীমান্তবর্তী বিভিন্ন দুর্গম পথ ব্যবহার করে মাদকের চালান দেশে আনার অপচেষ্টা চালায়।

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এসআরবি তৎপর রয়েছে। এর আগেও ধারাবাহিক সফল অভিযানের মাধ্যমে মাদকের বড় বড় চালান আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং জব্দকৃত দেশীয় অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে আটককৃতদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।