যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি

0
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি

প্রতি বছর, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসে। স্বপ্ন পূরণ করতেই তারা মূলত এখানে আসে, সফলভাবে তাদের শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করার পরে বৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে কাজ ও বসবাস করতে পারে। তাছাড়া নিজ দেশে ফিরে গিয়ে শিক্ষকতা, ব্যবসা, রাজনীতি বা অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

কখন একজন শিক্ষার্থীর আবেদন করা উচিত?

ফল-২০২৪ সেশনের জন্য, সেপ্টেম্বর-২০২৩ এরপর আবেদন শুরু হবে, এবং বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের সময়সীমা ১৫-ডিসেম্বর, ২০২৩। খুব কম বিশ্ববিদ্যালয়ই ১৫ ফেব্রুয়ারি বা ১৫ মার্চ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করে। তাই, এখন থেকেই, শিক্ষার্থীদের তাদের নথিপত্রগুলো প্রস্তুত করা উচিত।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১. নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্ট

২. সিভি

৩. স্টেটমেন্ট অব পারপাস(SOP) বা রিসার্চ প্রপোজাল

৪. IELTS, TOEFL, DUOLINGO, বা MOI (Medium of Instruction)

৫. রিকমেন্ডেশন লেটার (শিক্ষার্থীর অধ্যাপক বা কোম্পানির সুপারভাইজার দ্বারা প্রেরিত হতে হবে)

৬. ট্রান্সক্রিপ্ট ইভ্যালুয়েশন(বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্ভর করে)

৭. পাসপোর্ট

৮. ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট (অপশনাল)

৯. জি. আর. ই (অপশনাল)

এখন শিক্ষার্থীকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট, ইংরেজি ভাষার পরীক্ষার সার্টিফিকেট, পাসপোর্টের জীবনী সংক্রান্ত পৃষ্ঠা, ইংরেজি ভাষাগত পরীক্ষার প্রমাণপত্র এবং ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট স্ক্যান করা উচিত (আবেদনকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত না হয় এবং তাদের I-20 নথিতে ডেফিসিট না থাকে)। অত:পর শিক্ষার্থীদের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করা উচিত কারণ এটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা হয়ে থাকে। সিভি দুই থেকে তিন পৃষ্ঠার হতে পারে এবং এতে একাডেমিক গবেষণার অভিজ্ঞতা যুক্ত করতে হবে। এস.ও.পি-তে(স্টেটমেন্ট অব পারপাস) , কেন সেই নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া হয়েছে, কোন বিষয়ে অধ্যয়ন করা হবে এবং পড়াশুনা শেষ করার পর ভবিষ্যত কর্মজীবন পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে ব্যাখ্যা করতে হবে। যদি শিক্ষার্থীর বর্তমান অধ্যয়ন মাধ্যম ইংরেজিতে পরিচালিত হয়, তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় মিডিয়াম অফ ইনস্ট্রাকশন (MOI) গ্রহণ করে থাকে। ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতা প্রমাণের জন্য বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে IELTS, TOEFL, বা DUOLINGO সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়। IELTS পরীক্ষার নিবন্ধন ব্রিটিশ কাউন্সিল অথবা আইডিপি অনুমোদিত সেন্টার হতে করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার আগে, শিক্ষার্থীদের রেকমেন্ডেশন লেটার জমা দেওয়ার জন্য তাদের পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যাপকদের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য ট্রান্সস্ক্রিপ্ট মুল্যায়নের প্রয়োজন পরে। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার জন্য, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের ফি প্রদান করতে হবে এবং একটি অনুরোধ পত্র জমা দিতে হবে। মাস্টার্স অথবা পিএইচডি পোগ্রামের ফুল ফান্ডের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের কাছে সিভি ও রাইটিং স্যাম্পল সহ ই-মেইল করতে হবে, প্রফেসরদের কাছে কোন শিক্ষার্থীর প্রোফাইল পছন্দ হলে অনলাইনে ইন্টারভিউ নিবেন এবং আডমিশন অফারের জন্য গ্রাজুয়েট স্কুল কর্তৃপক্ষকে রেকমেন্ড

করবেন। আইইএলটিএস ও জিআরই স্কোর তুলনামুলক বেশি থাকলে ফুল ফান্ড সহ আডমিশন পাবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি ইমেইলের মাধ্যমে ভর্তির অফার প্রদান করে থাকে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্ভর করে। কিছু আবেদনকারী সম্পূর্ন বৃত্তি সহ ভর্তি অফার পেয়ে থাকেন, কেউ কেউ আংশিক বৃত্তি পেয়ে থাকেন, এটি একাডেমিক ফলাফল, IELTS, এবং GRE স্কোরের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়, আবেদনকারীদের যদি তাদের I20-তে ডেফিসিট(Deficit) থাকে, তাহলে সেই পরিমাণ ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট প্রস্তুত করতে হবে এবংআম্বাসীতে ভিসা ইন্টারভিউ-এর সময় অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সাথে এই ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টটির হার্ডকপি সাথে রাখতে হবে।

প্রয়োজনীয় খরচপাতি

ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত খরচ, টিউশন ফিস এবং অন্যান্য খরচ বহন করতে হবে, যা I-20 তে উল্লেখ থাকবে। শিক্ষার্থী এই I-20-এর কাগজটি ভর্তির অফার লেটারের সাথে ই-মেইলে পেয়ে থাকে। ফুল ফান্ড প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কোনপ্রকার টিউশন ফি দিতে হবে না, অধিকন্তু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য বীমাও প্রদান করে থাকে।টিউশন ফির পরিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্ভর করে। পাবলিক কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির টিউশন ফি সর্বদাই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে কম এবং সাশ্রয়ী হয়ে থাকে।এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।অ্যডমিশন লেটার পাওয়ার আগে কোন টিউশন ফি প্রদান করতে হয়না।

ভিসার জন্য আবেদন

অবশেষে, ইউএস ইউনিভার্সিটি থেকে ভর্তির অফার লেটার ও I-20 পাওয়ার পর, ইউএস ভিসার জন্য অনলাইন আবেদনে করতে হবে। প্রথমে, একটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে, তারপর ইষ্টার্ন ব্যাঙ্ক লিমিটেডে (EBL) এ ভিসা ফি প্রদান করতে হবে অথবা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে (তালিকাভুক্ত ব্যাঙ্কটি ustraveldocs.com ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে) ভিসা ফি প্রদান করতে হবে, তারপর DS-160 নামক ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং ইন্টারভিউ তারিখ সিলেক্ট করার পর একটি ব্যাঙ্ক কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে সেভিস(SEVIS) ফি প্রদান করতে হবে। ঢাকাস্ত মার্কিন দূতাবাসে ভিসার সাক্ষাৎকারের সময় পাসপোর্ট, I-20, DS-160, ইন্টারভিউ অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, এবং টেস্ট স্কোর সহ সমস্ত একাডেমিক কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। ভিসা ইস্যু হওয়ার পরে আবেদনকারী একটি ইমেইল পাবেন এবং ভিসা সহ পাসপোর্টটি ভিএফএস গ্লোবাল নামক প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করতে হবে। তারপরে বিমানের টিকিট কেটে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে উড়াল দেওয়ার পালা।

লেখক
রনিফুল ইসলাম
এমএ, ইউনিভার্সিটি অব মেইন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে।
[email protected]