বিশেষ প্রতিনিধি: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রধান শিক্ষক সংকট নিরসনে অবশেষে বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে খালি থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই সমস্ত দাপ্তরিক নথিপত্র সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানোর জোর প্রস্তুতি নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকদের পদোন্নতির এই কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে মূল জটিলতা তৈরি হয়েছিল ২০১৩ সালের একটি বিধিমালাকে কেন্দ্র করে। ওই বিধিমালায় সদ্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের নিচে রাখা হয়েছিল, যা পরে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া থমকে যায়। আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই ১৩ বছরের দীর্ঘ জট নিরসন করেন। সর্বশেষ গত ২৫ অক্টোবর ওই মামলার ২৯ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ ও নির্দেশনার অনুলিপি প্রকাশিত হওয়ার পর পথ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়।
পদোন্নতি কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সম্প্রতি একটি কঠোর অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আইরিন পারভীন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে পদোন্নতি প্রক্রিয়ার পথে থাকা যেকোনো অবশিষ্টাংশ বা অভিযোগ আগামী৭ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। পূর্ণাঙ্গ জ্যেষ্ঠতার তালিকাসহ আনুষঙ্গিক সব কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালকের মাধ্যমে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।
চলতি মাসের মধ্যেই এই নথিপত্রগুলো পিএসসিতে পাঠানো হবে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন সাপেক্ষে ফাইল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসবে এবং মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিদ্যমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত থাকায় মানসিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত শিক্ষকরা সরকারের এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোড. আবুল কাশেম দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকরা বছরের পর বছর পদোন্নতিবঞ্চিত ছিলেন। সরকারের কাছে একটাই আবেদন— আর যেন কোনো নতুন আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতায় সময় নষ্ট না হয়; অবিলম্বে চূড়ান্ত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে পদোন্নতি কার্যকর করা হোক।”
প্রধান শিক্ষক পদে এই বিশাল পদোন্নতি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের প্রশাসনিক গতিশীলতা ও মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

