রাজশাহীতে লাগামহীন বেসরকারি চিকিৎসা ব্যয়: ফি’র ভারে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

0
রাজশাহীতে লাগামহীন বেসরকারি চিকিৎসা ব্যয়: ফি’র ভারে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসার নামে চলছে যেন খরচের মহোৎসব। বিশেষ করে চিকিৎসকদের পরামর্শ ফি (ভিজিট ফি) সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এই অঞ্চলের হাজারো রোগী। পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় সেবার চেয়ে ব্যয়ই এখন প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে নামমাত্র মূল্যে বিশেষজ্ঞ সেবা পাওয়া গেলেও বেসরকারি পর্যায়ে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে বেসরকারি চেম্বারগুলোতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ভিজিট ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এর বাইরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অতিরিক্ত খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পেরে অনেক রোগী মাঝপথেই চিকিৎসা ছেড়ে দিয়ে জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন।

রাজশাহীর বেসরকারি চিকিৎসা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির এই প্রবণতা নতুন নয়। ইতিপূর্বেও ফি বাড়ানোকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি বা অপারেশন বন্ধ রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে। সেই সময়কার অস্থিরতার রেশ ধরে এখন যে উচ্চমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার চড়া মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু ভিজিট ফি নয়, বরং আইসিইউসহ জরুরি সেবার অপর্যাপ্ততা এবং উচ্চমূল্য এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। সম্প্রতি আইসিইউ সুবিধার অভাবে শিশু মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনা এ অঞ্চলের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ চিত্রটিই ফুটিয়ে তুলেছে।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এখন ‘টাকা নেই তো চিকিৎসা নেই’—এমন নিষ্ঠুর বাস্তবতাই সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার সুদের ওপর ঋণ নিচ্ছে, আবার কেউ কেউ শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। যারা ঋণের সুযোগ পাচ্ছেন না, তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফিরছেন।

রাজশাহীর সচেতন মহলের মতে, এই অরাজকতা বন্ধে তিনটি পদক্ষেপ জরুরি, বেসরকারি হাসপাতালের ফি এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ নির্ধারণে সরকারি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান ও পরিধি বাড়িয়ে মানুষের বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। অতি দরিদ্রদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য সহায়তা বা বীমা সুবিধা নিশ্চিত করা।

জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিলে এই অঞ্চলে চিকিৎসা বৈষম্য আরও প্রকট আকার ধারণ করবে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।