আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্ত হচ্ছে নতুন এক কঠিন শর্ত। এখন থেকে মার্কিন নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (বিশেষ করে পর্যটন ও ব্যবসা) পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। মূলত যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করতেই এই ‘পাইলট প্রোগ্রাম’ চালু করেছে মার্কিন প্রশাসন।
কনস্যুলার অফিসাররা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও ইন্টারভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে এই বন্ডের শর্তারোপ করতে পারবেন। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হবে তিনটি ধাপে: ১. ৫,০০০ মার্কিন ডলার ২. ১০,০০০ মার্কিন ডলার ৩. ১৫,০০০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা)
আবেদনকারীকে এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছাড়া কোনো অর্থ আগেই জমা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। ভ্রমণকারী নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চললে এই টাকা ফেরত পাবেন। শর্তগুলো হলো: অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করা। ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে। মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি না পেলে।
সতর্কতা: যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন বা সেখানে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের (যেমন: রাজনৈতিক আশ্রয় বা এসাইলাম) আবেদন করেন, তবে জামানতের পুরো টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে। এগুলো হলো: বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK), ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)
নির্ধারিত এই পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং টাকা ফেরত পাওয়া জটিল হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে নেপাল, ভুটান, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া ও উগান্ডাসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভ্রমণ যেমন ব্যয়বহুল হবে, তেমনি সাধারণ পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে।

