জুলাই গণহত্যার বিচার: শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর জাতিসংঘের গুরুত্বারোপ

0
জুলাই গণহত্যার বিচার: শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর জাতিসংঘের গুরুত্বারোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছে জাতিসংঘ। ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবির প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক।

স্থানীয় সময় বুধবার (২১ জানুয়ারি) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ফারহান হক বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় যারা জড়িত, বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং উপযুক্ত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।” তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি যেন ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি মৌলিক শ্রদ্ধা’ রেখে সম্পন্ন করা হয়, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত এক সাংবাদিক ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যু এবং বাংলাদেশের আদালতে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি জানতে চান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য জাতিসংঘ ভারত সরকারকে কোনো আহ্বান জানাবে কি না।

জবাবে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে ফারহান হক বলেন: “জাতিসংঘ নিজেই এসব হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তথ্য ও প্রতিবেদন সরবরাহ করেছিল। সুতরাং স্পষ্টতই এখানে জবাবদিহিতা প্রয়োজন। তবে এটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে হতে হবে।”

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালে একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। গত কয়েক মাস ধরেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। জাতিসংঘের এই সাম্প্রতিক বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা দেখছেন ন্যায়বিচারের প্রতি বৈশ্বিক সমর্থনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে, তবে তারা একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি হতে হবে স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।

এক নজরে জাতিসংঘের অবস্থান:

হত্যাকাণ্ডের স্বীকৃতি: জুলাই বিপ্লবের নিহতের সংখ্যা ও নৃশংসতার তথ্য জাতিসংঘ স্বীকৃত।

অপরাধী শনাক্তকরণ: অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধী চিহ্নিত করার আহ্বান।

আইনি বাধ্যবাধকতা: যে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তিকে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের যথাযথ অনুসরণ।

বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।