জয়নাল আবেদীনঃ জাতীয় পার্টিকে (জাপা) রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার দাবির তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের আন্দোলনের ‘অবদান’ নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জিএম কাদের। তিনি অভিযোগ করেছেন, জামায়াত-এনসিপি ও সমমনা দলগুলো ভিন্নমত দমনের নামে দেশে ‘মব কালচার’ ও ‘গণহত্যা’র রাজত্ব কায়েম করছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে রংপুর নগরীর কাচারী বাজার এলাকায় পীর কেরামত আলী জৌনপুরীর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাপা চেয়ারম্যান এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন। তিনি বলেন,
“এনসিপির যে নেতারা আজ নিষিদ্ধের বুলি আওড়াচ্ছেন, তারা কোথা থেকে আসলেন? জুলাই আন্দোলনে তাদের অবদান কী? আমি চ্যালেঞ্জ করছি, তারা প্রমাণসহ সামনে আসুক যে এই দেশের জন্য বা এই আন্দোলনের জন্য তারা কী করেছেন।”
জিএম কাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘দুর্দিন’ হিসেবে অভিহিত করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “পরিকল্পিতভাবে মবের নামে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। আমার ভয় হচ্ছে, সামনের দিনে বিচারের নামে প্রহসন করে তারা আরও কিছু গণহত্যা চালাবে।”
তার মতে, প্রথমে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে টার্গেট করা হলেও এখন সম্পূর্ণ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আজ আমাদের ধরছে, কাল হয়তো অন্য কোনো দলকে ধরবে। তারা এখনো হয়তো বুঝতে পারছে না, কিন্তু সময় হলে ঠিকই টের পাবে।”
দেশজুড়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে জিএম কাদের বলেন, যারা মামলা দিয়েছে তারা নিজেরাও জানে এর কোনো সত্যতা নেই। কেবল রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এই মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর হয়ে রংপুরে পৌঁছান জিএম কাদের। তিনি সেনপাড়া কবরস্থানে নিজ বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। এরপর পল্লী নিবাসে গিয়ে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত করেন।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির, জেলা কমিটির সভাপতি আজমল হোসেন লেবু এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান নাজিমসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

