আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দীর্ঘ উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নমনীয় সুর এবং ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে এমন এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে এখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বেশি মনোযোগী হচ্ছে হোয়াইট হাউস।
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে সরে আসার প্রচ্ছন্ন আভাস দেন। তিনি লিখেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি আমরা। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।”
প্রেসিডেন্টের এই বার্তার পরপরই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, পেন্টাগন শুরু থেকেই এই মিশনটি সফল করতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের সামরিক অভিযানটি ‘সাফল্যের’ তকমা দিয়ে ইতি টানার পথ খুঁজছে।
ইরান যুদ্ধ যতটা সহজ হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা পশ্চিমা অর্থনীতির জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম। এই সংকট মোকাবিলায় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ একটি নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী আগামী এক মাসের জন্য ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট করেছেন, এই ছাড় কেবল সেই সব তেলের চালানের জন্য প্রযোজ্য হবে যা ইতিমধ্যে পরিবহনের পথে (On route) রয়েছে। নতুন কোনো ক্রয়াদেশ বা ব্যবসার জন্য এই সুযোগ দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানকে পুরোপুরি কোণঠাসা করতে গিয়ে উল্টো বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বড় ধাক্কা লেগেছে, তা সামাল দিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই ‘কৌশলগত পিছুটান’ দিচ্ছে। ইরানের তেল পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনা।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার এই ছায়া যুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ার পর ডিয়েগো গার্সিয়া কিংবা ভারত মহাসাগরের অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রকে ভাবিয়ে তুলেছে। ট্রাম্পের এই ‘মিশন সাকসেসফুল’ ঘোষণা মূলত দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার একটি রাজনৈতিক ঢাল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

