গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নে একটি গরুর মাংসের টুকরোকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রান্নার সময় একটি মাংসের টুকরোয় আরবি হরফে ‘আল্লাহ’ শব্দটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। শনিবার সকালে ইউনিয়নের পালোয়ান বাড়ি এলাকায় হতদরিদ্র কমলা বেগমের বাড়িতে এই অলৌকিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কমলা বেগম গত কোরবানির ঈদে বিভিন্ন বাড়ি থেকে সংগৃহীত মাংস প্রতিবেশীর ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। শনিবার সকালে সেই মাংস রান্না করার সময় তিনি এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। কমলা বেগমের ভাষ্যমতে, কড়াইয়ে থাকা একটি মাংসের টুকরো বারবার পানির ওপর ভেসে উঠছিল।
তিনি বলেন, “আমি বারবার কাঠি দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও টুকরোটি ডুবছিল না। দীর্ঘক্ষণ জ্বাল দেওয়ার পরও মাংসটি সেদ্ধ হচ্ছিল না। অবাক হয়ে যখন টুকরোটি হাতে নিলাম, দেখলাম আগুনের তাপেও সেটি ফুটন্ত ঝোলের মতো গরম নয়, বরং একদম ঠাণ্ডা। তখনই লক্ষ্য করি সেখানে আরবি হরফের মতো কিছু লেখা আছে।”
খবরটি মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে পালোয়ান বাড়ি এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এক নজর অলৌকিক দাবি করা সেই মাংসের টুকরোটি দেখতে ছুটে আসছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই দাবি করছেন, মাংসের গায়ে প্রাকৃতিকভাবেই ‘আল্লাহ’ শব্দটি খোদাই করা দেখা যাচ্ছে।
প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনাটি জানার পর তারা কমলা বেগমের বাড়িতে গিয়ে নিজ চোখে মাংসের টুকরোটি দেখেছেন। ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা থেকে অনেকেই একে ‘কুদরতি কারিশমা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা প্রশাসনিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপাতত কমলা বেগমের জীর্ণ কুটিরটি এখন কৌতূহলী জনতার মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বাড়ির সদস্যরা।

