
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পাল্টা জবাবে রোববার (২২ মার্চ) ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করে জানিয়েছে, যদি ইরানের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়, তবে হরমুজ প্রণালি ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে যতক্ষণ না সেই স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান আক্রান্ত হলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আইসিটি স্থাপনায় ‘তীব্র আক্রমণ’ চালানো হবে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন মালিকানাধীন সকল কোম্পানিকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হবে। যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করবে ইরান।
রোববার নতুন করে ইরান থেকে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। ইসরায়েলজুড়ে বর্তমানে রেড অ্যালার্ট বা উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। তেল আবিব ও জেরুজালেমে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আজ একাই ইরান থেকে ছোড়া ৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ইরানের প্রায় ১৭৭৩টি ড্রোন ও ৩৪৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার পর থেকেই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। ইরানের অনুমতি ছাড়া বর্তমানে কোনো জাহাজ বা ট্যাংকার এই রুট ব্যবহার করতে পারছে না।
এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাজার স্থিতিশীল করতে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে—হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বা ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই জলসীমায় প্রবেশ করলেই তাকে ডুবিয়ে দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ‘স্বল্পমেয়াদী অভিযান’ এখন এক দীর্ঘস্থায়ী ও বহুমাত্রিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। একদিকে আইআরজিসি’র ‘আত্মঘাতী’ হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক বিশাল বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধান না খোঁজে, তবে বিশ্ব এক নজিরবিহীন জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে।
