আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের অস্তিত্বের জানান দিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। একদিকে তার রহস্যময় বার্তা, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশাল সামরিক প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগর এখন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধ এখন আর কেবল সম্ভাবনা নয়, বরং রূঢ় বাস্তবতা।
বেশ কিছুদিন ধরে মোজতবা খামেনেইর শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে ধোঁয়াশা ছিল। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জনসমক্ষে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে মোজতবা আদৌ জীবিত আছেন কি না।
সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মোজতবা একটি চিঠির মাধ্যমে নিজের উপস্থিতির জানান দিয়েছেন। ইরাকের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখা এই বার্তায় তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনাদের সমর্থন অবিস্মরণীয়। ইরানের নেতৃত্ব অটুট আছে এবং আমাদের প্রতিরোধ সংগ্রাম থামবে না।”
যদিও তিনি এখনো ক্যামেরার সামনে আসেননি, তবে এই বার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তেহরানের ক্ষমতার লাগাম এখন তার হাতেই।
ইরানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ‘তেহরান টাইমস’ তাদের প্রথম পাতায় ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে এক নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। বড় অক্ষরে লেখা শিরোনামে বলা হয়েছে— “Welcome to Hell” (নরকে স্বাগতম)।
প্রতিবেদনে সাফ জানানো হয়েছে, কোনো মার্কিন সেনা যদি ইরানের মাটিতে পা রাখে, তবে তারা কেবল কফিনবন্দি হয়েই স্বদেশে ফিরবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি এটিকে ইরানের সরাসরি ‘ওয়ার-টোন’ বা যুদ্ধের হুংকার হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের হুমকির মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১০,০০০ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন। ইতিমধ্যে শক্তিশালী উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ (USS Tripoli) সাড়ে তিন হাজার সৈন্য এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর জলসীমায় পৌঁছেছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সাথে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে, কিন্তু হার্গ দ্বীপের (Kharg Island) মতো কৌশলগত পয়েন্টের কাছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই সংঘাতের আঁচ কেবল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধে পূর্ণশক্তি নিয়ে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের সাম্প্রতিক তৎপরতা ইসরায়েলি শহরগুলোতে উন্নত ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন হামলা। লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি।
ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র হার্গ দ্বীপের খুব কাছে মার্কিন সেনার অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণাত্মক মনোভাব পরিস্থিতিকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে। একদিকে মোজতবার রহস্যময় নেতৃত্ব, অন্যদিকে ট্রাম্পের আগ্রাসী রণকৌশল—সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। তথ্যসূত্র:টিওআই ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

