বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশে শিশুস্বাস্থ্যের অবনতি এবং হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। এনআইসিইউ-এর (NICU) অপেক্ষায় থেকে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের এক ‘করুণ চিত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বর্তমান সংকটের ভয়াবহতা এবং এর পেছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) বা জরুরি চিকিৎসা সুবিধা অত্যন্ত অপ্রতুল। সামান্য অসুস্থতায় দেশের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে রোগীদের ঢাকা অভিমুখে ছুটে আসতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি মনে করেন, এনআইসিইউ-এর সিরিয়াল পেতে পেতে শিশুদের ‘মৃত্যুর মিছিল’ দীর্ঘ হওয়া আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলছে।
শিশুরা কেন দ্রুত ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, তার কিছু সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ উল্লেখ করেছেন এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তার মতে: দিনদিন উন্নতির নামে শিশুরা মাটি ও প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কৃত্রিম ও অপ্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে তাদের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা মা-বাবার নিবিড় মমতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গৃহকর্মী বা ডে-কেয়ার সেন্টারে বেড়ে ওঠার ফলে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বিজাতীয় অপসংস্কৃতির প্রভাবে পরিবারগুলো ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেও অনিরাপদ হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, “আমল, দোয়া এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিকর অনেক কিছুকে আমরা আপন করে নিয়েছি। আমাদের উচিত নিজেদের এবং সন্তানদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সচেষ্ট হওয়া।”
চলমান হাম সংকট মোকাবিলায় শায়খ আহমাদুল্লাহ অভিভাবকদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন, শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। শিশুদের আবদ্ধ না রেখে প্রকৃতির স্পর্শে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। হামের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যেকোনো বিপদে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা ও ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে তিনি দোয়া করেন— “মহান আল্লাহ আমাদের সন্তানদের সকল প্রকার ব্যাধি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।”

