মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়: ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এ তছনছ মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান

0
মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়: ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এ তছনছ মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পারস্য উপসাগর থেকে লোহিত সাগর—পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন আগুনের গোলক। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মার্কিন বিমানবাহিনীর ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে। তেহরানের ছোড়া শত শত ব্যালিস্টিক মিসাইল ও কামিকাজে ড্রোনের আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের ভিত কার্যত কেঁপে উঠেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া-এর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আকাশের নীলিমা ঢেকে দিয়েছে। মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্যাট্রিয়ট’ সক্রিয় থাকলেও ড্রোনের সংখ্যার আধিক্যের কারণে তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।

মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের আওতাধীন ঘাঁটিগুলোতে অবস্থানরত এফ-১৬ সহ অত্যাধুনিক প্রজন্মের অসংখ্য যুদ্ধবিমান এখন ধ্বংসস্তূপ। বিশেষ করে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে নিখুঁত হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর চোখ হিসেবে পরিচিত দু’টি ‘E-3 Sentry’ (AWACS) বিমান ধ্বংস হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ইরানের এই সর্বাত্মক হামলায় অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে। হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল পাইলটদের আবাসন এলাকা বা ব্যারাক। এছাড়া কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরাকের প্রায় ১৭টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একযোগে তাণ্ডব চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।

যেসব ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য: কাতারের আল-উদাইদ ঘাঁটি: ব্যালিস্টিক মিসাইলের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। বাহরাইন: মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা। ইরাক-জর্ডান সীমান্ত: কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমান (KC-135) ভূপাতিত হওয়ার খবর। হরমুজ প্রণালীঃ ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এক অভিনব কৌশলে যুদ্ধ জয় করছে। মাত্র ২০ হাজার ডলার মূল্যের ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন ব্যবহার করে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নজরদারি ও সামরিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

হোয়াইট হাউজ থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানকে এই হঠকারী আচরণের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।” অন্যদিকে, এই যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম একলাফে কয়েক গুণ বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত লাখ লাখ প্রবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রবাসীদের সতর্ক থাকার এবং জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন ‘সর্বাত্মক যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহতের প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান যে ‘অল-আউট’ হামলার পথ বেছে নিয়েছে, তা বিশ্বশান্তিকে এক দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।