মার্কিন সমরাস্ত্রে টান: ইরান-উত্তেজনায় পেন্টাগনের মজুত শূন্যের পথে, দৈনিক খরচ ১০০ কোটি ডলার

0
মার্কিন সমরাস্ত্রে টান: ইরান-উত্তেজনায় পেন্টাগনের মজুত শূন্যের পথে, দৈনিক খরচ ১০০ কোটি ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে চলমান ছায়াযুদ্ধ এবং সামরিক তৎপরতার কারণে বড় ধরনের কৌশলগত সংকটে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত মার্কিন সামরিক ভাণ্ডারে থাকা অত্যাধুনিক ও উচ্চ-প্রযুক্তির অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন এখন এশিয়া ও ইউরোপ থেকে অস্ত্র সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করতে বাধ্য হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

সংঘাতের ব্যয় নিয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি মুখ না খুললেও আন্তর্জাতিক দুটি স্বতন্ত্র গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে এবং অস্ত্র সরঞ্জামের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন গড়ে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হচ্ছে। সেই হিসাবে এখন পর্যন্ত এই সংঘাতের পেছনে ওয়াশিংটনের মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্দিষ্ট কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্রের ঘাটতি। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় সংকটে পড়েছে: এটিএসিএমএস (ATACMS) ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমছে।

প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত এই মিসাইলগুলোর ব্যবহার অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল, নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় ভাণ্ডার দ্রুত খালি হচ্ছে।

পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সম্মুখ সমরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি মেটাতে ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন কমান্ড থেকে অস্ত্র সরিয়ে আনা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা কিংবা ইউরোপে ন্যাটোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়তে পারে।

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ফলে উচ্চ-প্রযুক্তির অস্ত্রের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু এই ধরণের অস্ত্র উৎপাদনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আগেই মজুত ফুরিয়ে গেলে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ছেদ পড়বে।

“যুক্তরাষ্ট্র এখন এক দ্বিমুখী সঙ্কটে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে সামলানো, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনের মতো বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সামনে নিজেদের সামরিক শক্তি ধরে রাখা। দুই ফ্রন্টে ভারসাম্য বজায় রাখা পেন্টাগনের জন্য এখন হিমালয়সম চ্যালেঞ্জ।”

ইরানকে কেন্দ্র করে এই সামরিক অস্থিরতা শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বলয়ে। মার্কিন এই রসদ-সংকট বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের একক আধিপত্যের ওপর বড় ধরণের আঘাত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।