চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ দেশের আর্থিক খাতের নাজুক পরিস্থিতির জন্য বিগত আমলের নজিরবিহীন অর্থ পাচার ও লুটপাটকে দায়ী করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে দেশ থেকে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে ব্যাংকগুলো প্রায় তারল্যশূন্য।
মানুষ নিজের জমানো টাকা তুলতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এই বিশাল ধ্বংসস্তূপ থেকে ব্যাংক খাতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সময়সাপেক্ষ হলেও সরকার নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছে।
শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হবে কেবলই জ্ঞানচর্চার পবিত্র স্থান। এখানে কোনো ধরনের দলীয়করণের সুযোগ দেওয়া হবে না।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে রাখঢাক না করে মন্ত্রী সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, “দেশে বিদ্যুৎ সংকট নেই—এ কথা বলার সুযোগ নেই।” তবে তিনি এর প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং একটি বিশ্বজনীন সংকট।
মন্ত্রী বলেন, অনেক দেশে জ্বালানি সংকটে কারফিউ পর্যন্ত দিতে হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে উন্নত ব্যবস্থাপনার কারণে এখনো কলকারখানা সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম অত্যন্ত সীমিত আকারে বাড়ানো হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব হয়।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি স্থিতিশীল, সংবেদনশীল ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়তে বদ্ধপরিকর। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারো নেই—সে যে দলেরই হোক না কেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

