আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধমেঘের ঘনঘটার মাঝেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা পাঠাল ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না তারা। বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনা এবং বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ধমনী খ্যাত ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে ওয়াশিংটনকে কোনো ধরনের হঠকারিতা না করার জন্য চূড়ান্ত সীমা বা ‘রেড লাইন’ বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই বিশেষ কূটনৈতিক বার্তাটি সরাসরি নয়, বরং পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ঠিক কোন বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দাবি বা চাপ মেনে নেবে না, তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই বার্তায় তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ইরানের এই অবস্থানের মূল ভিত্তি দুটি বিষয় তা হল নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমাদের কোনো শর্তারোপ আর বরদাশত করা হবে না। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এখানে পশ্চিমা হস্তক্ষেপকে যুদ্ধের উসকানি হিসেবে দেখছে তেহরান।
“এই বার্তাগুলো কোনো আলোচনার প্রস্তাব নয়; বরং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে ইরানের একটি বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।” — ফারস নিউজ এজেন্সি
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জোর দিয়ে জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের নির্ধারিত নীতিমালার মধ্যে থেকেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই বার্তার মাধ্যমে দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে চায়— প্রথমত, তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। দ্বিতীয়ত, যদি তাদের সীমানা বা স্বার্থে আঘাত করা হয়, তবে তারা চরম পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের এমন কড়া অবস্থানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরাগচির এই বার্তা অঞ্চলটিতে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পরবর্তী পদক্ষেপকে প্রভাবিত করবে।
ইরানের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার পারদকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

