আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (NPT) ১১তম পর্যালোচনা সম্মেলনে ইরানকে অন্যতম ‘সহ-সভাপতি’ নির্বাচিত করাকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে তীব্র সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সম্মেলনের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়, যা বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ ঘটিয়েছে।
১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এনপিটি চুক্তির কার্যকারিতা পর্যালোচনায় প্রতি পাঁচ বছর পরপর এই বড় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ও সম্মেলনের চেয়ারম্যান ডো হুং ভিয়েত জানান, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত দেশগুলোর গ্রুপ থেকে ইরানকে সহ-সভাপতি পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মোট ৩৪ জন সহ-সভাপতির তালিকায় ইরানের নাম আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে মার্কিন প্রতিনিধি দল।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়ো সরাসরি এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “ইরান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সঙ্গে অসহযোগিতা করে আসছে। এমন একটি দেশকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো এনপিটির বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর কুঠারাঘাত। এই সিদ্ধান্ত শুধু লজ্জাজনক নয়, বরং পুরো সম্মেলনের জন্য বিব্রতকর।”
মার্কিন অভিযোগকে মুহূর্তেই ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দেন আইএইএ-তে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি। তিনি পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, “ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ যারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। যারা নিজেরা অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করছে, তারা অন্যদের নীতি শেখাতে পারে না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তার শাসনামলে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। সাম্প্রতিক কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ইরানকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান একটি চমকপ্রদ প্রস্তাব পেশ করেছে বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাত নিরসন না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দরকষাকষি স্থগিত রাখার প্রস্তাব। পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ মেটানোর ওপর জোর দেওয়া।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে সহ-সভাপতি করার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আপত্তির কারণে সম্মেলনের মূল এজেন্ডা—অর্থাৎ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ—কতটুকু এগোবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ও ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও জটিল রূপ নিতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও জাতিসংঘ সদর দপ্তর।

