বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে এমন এক মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া মানুষের করুণা নয়, বরং সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত হবে। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, “অর্থের অভাবে দেশের কোনো নাগরিক আর ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে না।”
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশ এখন গণতন্ত্রের সঠিক পথে হাঁটছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার কেবল আইনের কিতাবে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, একে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান করতে হবে। তিনি বলেন “ন্যায়পরায়ণতা তখনই সার্থক হয়, যখন আইন কেবল যান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ না হয়ে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার নৈতিক অঙ্গীকারে রূপ নেয়।”
আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা উচ্চমূল্যে আইনজীবী নিয়োগে অসমর্থ, তাদের জন্য রাষ্ট্র সব ধরনের লিগ্যাল এইড বা আইনি সহায়তা দেবে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
‘বিচার বিলম্বিত হওয়া মানেই বিচার অস্বীকার করা’—এই চিরাচরিত সত্যটি মনে করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান জানান, বিচারিক ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে এবং দ্রুত সমাধান দিতে সরকার এখন মামলার আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) ওপর জোর দিচ্ছে। এতে করে দীর্ঘদিনের মামলা জট কমবে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে।
লক্ষ্য এমন একটি দেশ যেখানে সবার সমান অধিকার থাকবে। দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য সরকারি খরচে আইনি লড়াই নিশ্চিত করা। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নাগরিকদের মানবিক মর্যাদা সবার আগে। ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিচার বিভাগকে আরও জনবান্ধব করার অঙ্গীকার করেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন আইনগত সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে না হয়। সরকারের এই পদক্ষেপকে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছে।

