লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব: জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের জোরালো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

0
লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব: জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের জোরালো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত সামরিক পরিস্থিতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার পরপরই জর্ডানে অবস্থিত দুটি প্রধান মার্কিন বিমানঘাঁটিতে একযোগে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

‘আগ্রাসনের শাস্তি’ (Punishment of the Aggressor) সংকেত নামে পরিচালিত এ অভিযানে জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক মার্কিন বিমানঘাঁটিকে নিশানা করা হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও শাফাক নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে আইআরজিসির দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সমুদ্রপথে মাইন ফেলার প্রস্তুতির ওপর আগাম হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য হুমকি নস্যাৎ করতেই এ হামলা চালায়। তবে এ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন বলে স্বীকার করেছে আইআরজিসি।

লারাক দ্বীপে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চালানো তাদের এ পাল্টা অভিযানে মার্কিন ঘাঁটি দুটির কারিগরি সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য খর্ব করার বার্তা দিয়ে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সেন্টকম এবং ফক্স নিউজকে দেওয়া মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই প্রতিহত (Intercept) করা হয়েছে। জর্ডান প্রতিরক্ষা বাহিনীও জানায়, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা অন্তত ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস করেছে। পেন্টাগন দাবি করেছে, এ হামলায় মার্কিন অবকাঠামোর বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও এলএনজির বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং তার জবাবে জর্ডানে থাকা ঘাটিতে সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের ফলে এ অঞ্চলে সরাসরি সংঘাত বৃদ্ধির চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে, যা বিশ্ববাজারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে।