কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: বিয়ের আনন্দঘন মুহূর্ত মুহূর্তে রূপ নিল চরম আতঙ্ক ও আতঙ্কে। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কনেকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীদের মাইক্রোবাস থামিয়ে তামান্না আক্তার (১৮) নামের এক নববধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৩০ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী হাজিপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আক্তার মিয়ার (২৮) পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর-কনেসহ আত্মীয়স্বজনরা একটি নতুন মাইক্রোবাসে করে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
গাড়িটি রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মিয়াদ মিয়ার (২২) নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একদল সশস্ত্র যুবক গাড়ির গতিরোধ করে। তারা লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মাইক্রোবাসের কাঁচ ভাঙচুর করে এবং যাত্রীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে বরের স্বজনদের হাত থেকে টানা-হেঁচড়া করে নববধূ তামান্নাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে চম্পট দেয় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগী বরের পরিবার ও এলাকাবাসী হোসেনপুর থানায় যোগাযোগ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, “কনের পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত মিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে তামান্নাকে উত্যক্ত করে আসছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কিছু তথ্যে জানা গেছে, তাদের মধ্যে পূর্বপরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক থাকতে পারে, যা পরিবার মেনে না নেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে।”
ওসি আরও জানান, “ঘটনাটির পেছনের প্রকৃত কারণ উন্মোচনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অপহৃত কনেকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত মিয়াদসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে।”
জনাকীর্ণ বাজারে বরের গাড়ি থেকে কনেকে তুলে নেওয়ার এই অভিনব ও দুর্ধর্ষ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও জনমনে ভীতি বিরাজ করছে। বরের পরিবার অবিলম্বে কনে উদ্ধার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

