বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ এবং এর আশপাশের এলাকা আজ দুপুরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে কয়েকশ সরকারি কর্মচারী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার সামনে অবস্থান নিলে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহারের পাশাপাশি ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার ছুটির দিনে সকাল ৯টার দিকে ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কয়েকশ কর্মচারী জড়ো হন। সেখান থেকে থালা-বাসন হাতে নিয়ে ‘ভুখা মিছিল’ বের করেন তারা। আন্দোলনকারীদের দাবি—আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি করতে হবে।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে মিন্টু রোডে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলমের ভাষ্যমতে, তিন স্তরের ব্যারিকেড ভেঙে তারা যমুনার প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় ১০টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। আন্দোলনকারীরা যমুনার সামনে থেকে সরতে অস্বীকার করলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে এবং জলকামান দিয়ে পানি ছিটিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশের অ্যাকশনে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
দুপুর ১২টার দিকে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন:
“যমুনা এবং সংলগ্ন এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এখানে যেকোনো ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা আছে। তারা ব্যারিকেড ভেঙে আইন অমান্য করেছেন। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও সরকারি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা তাদের এই এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়েছি।”
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে শাহবাগ পর্যন্ত সড়কে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রাখা হয়েছে।
আন্দোলনরত কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের মূলে রয়েছে ৩১ জানুয়ারির একটি সময়সীমা। তাদের অভিযোগ: সরকার ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। দাবি আদায়ে গত সপ্তাহে টানা তিন দিন ২ ঘণ্টা এবং গতকাল বৃহস্পতিবার ৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন কর্মচারীরা। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত পে-স্কেল ঝুলে যাওয়ার শঙ্কায় তারা এখনই গেজেট প্রকাশের দাবিতে অনড়।
আন্দোলনের কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ-ফার্মগেট সড়কে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। বর্তমানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে আন্দোলনকারীরা নতুন করে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করায় ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল সীমিত রয়েছে।

