বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ আবদুর রশিদ জিতু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে তিনি দলটিতে যোগদান করেন।
জিতুর সাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের নির্বাচিত একঝাঁক ছাত্র প্রতিনিধিও বিএনপি ও ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়টির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
যোগদান অনুষ্ঠানে জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতু তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন: “একটি বৈষম্যহীন ও সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আমি আজ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করেই আমরা আগামী দিনের রাজনীতি সাজাতে চাই।”
নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন: “জাকসু ভিপি জিতুসহ জাবির হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আজ জাতীয়তাবাদী আদর্শে একাত্ম হয়েছেন। মেধাবী ছাত্ররা রাজনীতিতে এগিয়ে এলে দেশ ও দল সমৃদ্ধ হবে। আমরা তাদের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।”
ছাত্রদলে যোগ দিলেন যারা
জাকসু ভিপি জিতুর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের শীর্ষ পদের নেতারা আজ ছাত্রদলে নাম লিখিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে শিহাব ভিপি, নবাব সলিমুল্লাহ হল। রিফাত আহমেদ শাকিল ভিপি, আল বেরুনী হল। জিএম এম রায়হান কবীর ভিপি, আ ফ ম কামালউদ্দিন হল। অমিত বনিক ভিপি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল। বুবলি আহমেদ ভিপি, নওয়াব ফয়জুননেসা হল। ফারহানা বিথি ভিপি, বেগম খালেদা জিয়া হল। শাহরিয়ার নাজিম রিয়াদ জিএস, মীর মোশাররফ হোসেন হল। শরীফুল ইসলাম জিএস, শহীদ রফিক জব্বার হল।
এছাড়াও শহীদ সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ হাসান ও জিএস মাসুদ রানা মিন্টু এবং আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের এজিএস রিপন মন্ডল ছাত্রদলে যোগ দিলেও ব্যক্তিগত কারণে অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
আবদুর রশিদ জিতু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার রাজনৈতিক পরিচিতি তুঙ্গে ওঠে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে।
আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি জাহাঙ্গীরনগরে নেতৃত্বের অগ্রভাগে ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’-এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবিতে প্রথম সারিতে থাকায় ক্যাম্পাসে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে জাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের বিএনপিতে যোগদান দলটির ছাত্র রাজনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করবে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা বিএনপির জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

