ইউনূসের টেবিলে ৪০ হাজার চিরকুট: জনগণের আবেগ, ক্ষোভ আর স্বপ্নের ‘জীবন্ত দলিল’

0
ইউনূসের টেবিলে ৪০ হাজার চিরকুট: জনগণের আবেগ, ক্ষোভ আর স্বপ্নের ‘জীবন্ত দলিল’

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া, পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর আগামীর স্বপ্নের এক বিশাল দস্তাবেজ এখন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে। কোনো রাখঢাক না রেখে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টাকে নিজেদের মনের কথা জানিয়েছেন ৪০ হাজার ২০৬ জন সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ১৩তম সাধারণ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে এক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘ভোটের গাড়ি’ সারা দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্পটে গিয়ে জনমত সংগ্রহ করে। সেই গাড়ির সঙ্গে থাকা বিশেষ ‘জনমত বাক্সেই’ জমা পড়েছে হাজারো মানুষের হাতে লেখা এসব চিরকুট।

দেশের আটটি বিভাগ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ তাদের মতামত জানিয়েছেন। যার পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:

এসব চিরকুটে কেউ চেয়েছেন জুলাই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার, কেউ বা চেয়েছেন দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ। উঠে এসেছে বাজার সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে শিক্ষকদের মানোন্নয়নের দাবিও।

১০ বছরের রাফা (গাজীপুর): “আমি এ দেশের মাটি ও বাতাসের মাঝে নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে দেখতে চাই।”

দেওয়ান সালাহউদ্দিন (কুমিল্লা): “সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা যাবে না।”

ঠাকুরগাঁওয়ের এক দিনমজুর: “গরুর মাংস আমরা কিনে খেতে পারি না। বাজার নিয়ন্ত্রণ চাই। সিন্ডিকেট চলতেছে বাজারে।”

সাদিক (বরিশাল): “যে দেশে শিক্ষকদের মান উন্নয়ন নিয়ে কেউ ভাবে না, সে দেশে সুন্দর আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব না।”

লিজা ও সুমি (দিনাজপুর): “নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং ধর্ষণের ১০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর হোক।”

মানুষের এমন আবেগআপ্লুত মন্তব্যগুলো পড়ে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জনগণের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাকে ‘অমূল্য সম্পদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

“কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সব প্রশংসা, মন্তব্য, পরামর্শ এবং এমনকি কঠোর সমালোচনা ও নিন্দাও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।”

তিনি মনে করেন, এই চিরকুটগুলোই একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রধান নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।