কূটনৈতিক প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বইছে নতুন হাওয়া। দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁর সাথে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। ওম বিড়লা শুধু শপথ অনুষ্ঠানেই যোগ দেননি, বরং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে ওম বিড়লা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে মোদি জানিয়েছেন: ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন করে। বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উভয় দেশের মানুষের সমৃদ্ধি রক্ষায় ভারত পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বরে ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তরুণ নেতা শরীফ ওসমান হাদির অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে গভীর সংকট তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং নিরাপত্তার অজুহাতে ভারত তাদের ভিসা কার্যক্রম প্রায় স্থগিত করে দেয়। দীর্ঘ কয়েক মাস এক ধরনের ‘শীতল যুদ্ধ’ চলার পর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন সেই মেঘ কাটাতে শুরু করেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন,
“আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন করে পথ চলতে চাই। ভিসা কার্যক্রম নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন ভারতীয়দের জন্য সেবা চালু করেছে। ভারতও পর্যায়ক্রমে সকল ক্যাটাগরিতে ভিসা প্রদান স্বাভাবিক করতে ঢাকার সাথে কাজ করছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওম বিড়লার মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদির চিঠি পাঠানো এবং তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো একটি বড় কূটনৈতিক ইতিবাচক সংকেত। ভারতের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, তারা বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা চায় এবং প্রতিবেশী হিসেবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী।

