‘উন্নয়ন বরাদ্দকে ব্যক্তিগত টাকা বলা ভুল’: কুমিল্লা জেলা পরিষদের ২৫ কোটি টাকা নিয়ে আসিফ ও হাসনাতের ব্যাখ্যা

0
‘উন্নয়ন বরাদ্দকে ব্যক্তিগত টাকা বলা ভুল’: কুমিল্লা জেলা পরিষদের ২৫ কোটি টাকা নিয়ে আসিফ ও হাসনাতের ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন—জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার এমন একটি মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে পৃথকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। তারা দুজনেই এটিকে ‘ব্যক্তিগত অর্থ’ নয়, বরং ‘সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গতকাল শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, গণমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে তারা ব্যক্তিগতভাবে এই অর্থ পকেটে পুরেছেন। কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ।

বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে তিনি জাতীয় বাজেটের উদাহরণ টেনে বলেন, “জাতীয় বাজেট পাস হওয়া মানে যেমন সরকারপ্রধান সেই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে পান না, তেমনি উন্নয়ন বরাদ্দও কোনো ব্যক্তিগত অর্থ নয়। এটিকে ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা চরম ভুল ও বিভ্রান্তিকর।”

আসিফ মাহমুদ ব্যাখ্যা করেন, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বাজেটের একটি অংশ ‘বিশেষ বরাদ্দ’ হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দেওয়া হয়, যা মন্ত্রী বা উপদেষ্টার অনুমোদনে প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করা হয়। এই অর্থ জেলা পরিষদ বা পৌরসভার মাধ্যমে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক রাজস্ব খাত ও বিশেষ বরাদ্দ খাতকে এক করে ফেলায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই ২৫ কোটি টাকা সোলার লাইট স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ক্রয় এবং মসজিদ সংস্কারসহ বিভিন্ন দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে এই ঘটনার পর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফোনালাপে হাসনাত আব্দুল্লাহ সরাসরি প্রশাসকের কাছে ব্যাখ্যা চান এবং জানতে চান যে তিনি ‘টাকা খেয়েছেন’ কি না।

জবাবে প্রশাসক মোস্তাক মিয়া রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, রাজস্ব ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে হাসনাতের উপজেলায় ১০ কোটি টাকা এবং আসিফ মাহমুদের এলাকায় ১৫ কোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ গেছে। তিনি তাদের ‘টাকা খাওয়ার’ কথা বলেননি, বরং বরাদ্দের কথাই উল্লেখ করেছিলেন; যা গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। হাসনাত আব্দুল্লাহও জোর দিয়ে বলেন, এই অর্থ এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকারি নিয়মে এসেছে, কোনো ব্যক্তির জন্য নয়।

ভিডিও বার্তার শেষাংশে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আশা প্রকাশ করেন যে, জেলা পরিষদের প্রশাসক দ্রুতই তার বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দেবেন। অন্যথায় বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। নিজেদের অবস্থান শতভাগ পরিষ্কার উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে বরাদ্দের সব নথিপত্র ও তথ্য জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।